রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

প্যারিস রোডের সেই আড্ডাটা

প্যারিস রোড। নাম শুনলেই মনে হয় ফ্রান্সের কোন একটি রাস্তা। রাস্তাটির ছবি দেখলে বা প্যারিস রোড দিয়ে হাটলে তা-ই মনে হবে। কিন্তু না! রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা গেট থেকে সোজা শের-ই-বাংলা হল প্রর্যন্ত যে রাস্তাটি অবস্থিত সেটিই মূলত প্যারিস রোড নামে পরিচিত। চোখ ধাঁধানো গগণচুম্বি গাছ দিয়ে ঘেরা এই রাস্তাটি। যেন কোন শিল্পী তার তুলির আঁচড়ে যতন করে একেছেন মনোরম এ দৃশ্য। পিচ ঢালা রাস্তার দুই পাশে অতন্দ্র প্রহরীর মত দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলো শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেনি, আকৃষ্ট করেছে প্রকৃতি প্রেমী হাজারো মানুষকে। সকাল গড়িয়ে দুপুর, দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা এমনকি রাতের অন্ধকারেও থাকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী আর সাধারণ মানুষের সরব পদচারণা। সেই সাথে চলে গান, গল্প, আড্ডা আর ক্যামেরা বন্দি হয়ে ছবি তোলার হিড়িক। জানা যায়, ১৯৬৫ সালের দিকে সালের দিকে তত্কালীন উপাচার্য অধ্যাপক এম. শামসুল হক ফিলিপাইন থেকে কিছু গাছ নিয়ে আসেন। ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য এগুলো রোপণের দায়িত্ব দেন উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের তত্কালীন চেয়ারম্যানকে। তিনি এই রাস্তটিকেই বেছে নেন এবং রাস্তার দুই পাশে লাগিয়ে দেন। গাছগুলোর উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে বাড়তে থাকে এর সৌন্দর্য। প্রকৃতির অপরূপ শোভায় শোভিত হতে থাকে রাস্তাটি। পরিচিতি পায় দেশের একটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে। রোডটির নাম প্যারিস রোড হল কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের লেকচারার নাসির উদ্দিন বলেন, ‘রোডটির নাম প্যারিস রোড ছিল না। আমরা জানি তখন উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক নাদিরুজ্জামান ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বৃদ্ধির দায়িত্বে ছিলেন। তার নেতৃত্বে গাছগুলো লাগানো হয়, যা এখন অনেক বড় মহিরুয়ে পরিণত হয়েছে। রোডটির সাথে ফ্রান্সের রাজধানী প্যরিসের রাস্তাগুলোর সাথে অনেকটা মিল আছে তাই শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এটিকে প্যারিস রোড বলতে বলতে রাস্তাটি প্যারিস রোড নামে পরিচিত হয়ে ওঠেছে।’ রাস্তাটিতে হাঁটতে থাকা ফোকলোর বিভাগের শিক্ষার্থী জিসাত, সাবিহা, বাপ্পি ও মিশু জানান, ‘প্যারিস রোড একটি দৃষ্টি নন্দন রাস্তা। বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান স্থান এই প্যারিস রোড। রাস্তাটিতে হাঁটতে খুবই ভাল লাগে, প্রিয়জনের সাথে হাঁটলে তা আরো অনেক আনন্দের হয়। বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে হলে তো কথাই নেয়।’ সবুজ বাংলাদেশের বুক চিরে জন্ম নিয়েছে হাজারো প্রজাতির গাছ, শোভিত করেছে অনেক রাস্তাকে। বাহারি ডালে সজ্জিত কচি পাতার গগন সিঁড়ি গাছগুলো প্যারিস রোডটিকে দিয়েছে আলাদা একটি উজ্জ্বলতা। তাইতো দর্শনার্থীদের ধারণা, দেশের আর কোন বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন সুউচ্চ গাছের বিন্যাস এবং রাস্তার সৌন্দর্য আর নেই।