গল্প নয় সত্যি

বাজিতে বিপরীত...

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে তার দেশ। ঘুচিয়েছে বহুদিনের অপ্রাপ্তির বেদনাও। কই তাতে খুশি হয়ে আর দশটা মানুষের সঙ্গে রাস্তায় বিজয় মিছিলে নামবেন। অথচ তা না করে তিনি কি না মনের দুঃখ সামলে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এমনকি শেষতক সেই দুঃখ আর ব্যক্তিগত অপ্রাপ্তির বেদনা সামলাতে না পেরে হূদযন্দ্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে পাড়ি জমান না ফেরার দেশেও। ফি বছর নানা খেলায় শিরোপা জেতার পর আনন্দের অতিশয্যে দু’একজনের হয়তো মৃত্যু ঘটে। কিন্তু তাই বলে নিজের দেশের বিজয়ে এভাবে দুঃখ পেয়ে মরার ঘটনা হয়তো বিরলই। আর শ্রীলঙ্কার ফল বিক্রেতা এসপি কুমারার জীবনে এই দুঃখময় বাস্তবকে বয়ে এনেছে ক্রিকেট নামের খেলাটির সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে যাওয়া বাজির ঘটনা। নিজের দেশের বিপক্ষে এবং ভারতের জয়ের পক্ষে এ বছর ৪০,০০০ শ্রীলঙ্কান রুপি বাজি ধরেছিলেন কুমারা। তবে বাজিতে হারায় টাকার পাশাপাশি দুঃখের চাপ সইতে না পারা কুমারাকে জীবন দিয়ে এর মূল্য দিতে হয়েছে। যারা ভাবছেন, নিজের দেশের বিপক্ষে কেন এই হটকারি বাজিটি ধরতে গেলেন কুমারা তাদেরকে একই সাথে চোখ রাখতে হবে টিম শ্রীলঙ্কা আর কুমারার অতীত ইতিহাসের দিকে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গেল আসরে নিজের দেশে শ্রীলঙ্কা যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হয়েছিল তখন অনেকটা নিশ্চিন্ত মনেই শ্রীলঙ্কার পক্ষে প্রায় লাখ খানেক রুপি বাজি ধরেছিলেন কুমারা। তবে সে যাত্রায় শ্রীলঙ্কার পরাজয়ের সাথে সাথে নিজের লাখ টাকা খোয়ানোর শোকও সামলাতে হয়েছিল তাকে। এ কারণেই এ বছর তিনি বাজি ধরেছিলেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ভেবেছিলেন ভারত তার পারফর্মেন্স দিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি কিছুটা হলেও কমাতে পারবে তার ক্ষতির পরিমাণ। তবে কুমারার সে আশায় জল ঢেলে উল্টো শ্রীলঙ্কাই জিতে নেয় শিরোপা। আর সেই শোকেই শেষতক হূদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে স্থানীয় এক হাসপাতালে মারা যান ক্রিকেট বাজির শিকার এই ফলবিক্রেতা।