আমার প্রিয় স্কুল

বশিরউদ্দিন আদর্শ স্কুল এন্ড কলেজ

কাশফিয়া ফায়িযাতুন, অষ্টম শ্রেণি, সদস্য নম্বর :১০৯ ঢাকা জেলার মিরপুর-১ এর সন্নিকটে আহম্মদনগর, পাইকপাড়ায় এক ছায়াসুনিবিড় মনোরম পরিবেশে অবস্থিত আমার প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বশিরউদ্দিন আদর্শ স্কুল এন্ড কলেজ। সুদীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত সফলতার সাথে এলাকার মানুষের শিক্ষা সেবা প্রদান করে আসছে। এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমিক শাখা ১৯৬৮ সালে স্থাপিত হয়। ১৯৯৫ সালে এটি উচ্চ মাধ্যমিক শাখায় উন্নীত করা হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব মরহুম ছালেমউদ্দিন। তিনি এই এলাকার একজন বিদ্যোত্সাহী ও দানশীল ব্যক্তি হিসেবে সুপরিচিত। এই প্রতিষ্ঠানে প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হয়। আমাদের এই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন। আমাদের এই প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৬০ জন অভিজ্ঞ শিক্ষক রয়েছেন। তারাও আমাদের অত্যন্ত আদর স্নেহ ও ভালোবাসা দিয়ে দেশের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য নিরলসভাবে সার্বক্ষণিক চেষ্টা করছেন। এই প্রতিষ্ঠানে দুই হাজারের কিছু বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। বিদ্যালয়টি দুটি শিফটে বিভক্ত। প্রভাতী পর্বে বালিকারা এবং দিবা পর্বে বালকরা লেখাপড়া করছে। বশিরউদ্দিন আদর্শ স্কুল এন্ড কলেজের নিজস্ব খেলার মাঠ রয়েছে। সেখানে আমরা প্রতিদিন টিফিন পিরিয়ডে খেলাধুলা করি। বিকাল হলেই স্কুলের মাঠকে ঘিরে শিশু-কিশোরা বিভিন্ন খেলায় মেতে ওঠে। আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি চারতলা ভবন বিশিষ্ট এল টাইপের একটি প্রতিষ্ঠান। এখানে স্বয়ংসম্পূর্ণ বিজ্ঞান গবেষণাগার, কম্পিউটার গবেষণাগার, লাইব্রেরী, কমন রুম ও একটি ক্যান্টিন আছে। শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশের জন্য এখানে অভিজ্ঞ শিক্ষক দ্বারা সহপাঠক্রমিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে আসছে। নিয়মিত বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, দেয়াল পত্রিকা, শিক্ষা সফর, বনভোজন, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। জাতীয় দিবসগুলোও মর্যাদাসহকারে পালন করা হয়। এই প্রতিষ্ঠানে কয়েকজন চৌকস স্কাউট শিক্ষকগণের তত্ত্বাবধানে কাব, স্কাউট, ইয়েলো বার্ড, গার্লস গাইড নিরলস ও নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এখানকার গভর্নিং বডির সদস্যগণ অত্যন্ত সফলতার সাথে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন। এখানে মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বিশেষ সুবিধা দেয়া হয়। এই প্রতিষ্ঠানের পি.এস.সি, জে.এস.সি, এস.এস.সি ও এইচএসসি ফলাফল বেশ সন্তোষজনক। সকল পাবলিক পরীক্ষাতে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য শিক্ষার্থী বৃত্তিলাভ করে।