বর্তমান যুগ প্রযুক্তির। বাংলাদেশে প্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার খুবই সীমিত। এখন কৃষিপণ্যের দামের থেকে উত্পাদন খরচ বেড়ে গেছে। যার কারণে কৃষকেরা তাদের উত্পাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে হতাশায় ভুগছে এবং চাষাবাদে আগ্রহ হারাচ্ছে। কিন্তু প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে উত্পাদন খরচ এবং পরিশ্রম উভয়ই কমবে। এখন বাজারে ধান কাটার মেশিন (রিপার নামে পরিচিত) পাওয়া যায়। যা ১ বিঘা ধান কাটতে সময় নেয় ২৫-৩০ মিনিট এবং তেল খরচ হয় ২-২.৫ লিটার। একজন শ্রমিকসহ ধান কাটতে মোট খরচ হবে ৫০০-৫৫০ টাকা। ১ বিঘা জমিতে ধান কাটতে কমপক্ষে ৪-৫ জন শ্রমিক লাগে এবং শ্রমিক খরচ জনপ্রতি ৫০০-৬০০ টাকা (অঞ্চলভেদে) হলে মোট খরচ হয় ২৫০০-৩০০০ টাকা। এক্ষেত্রে অনেক টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব। এছাড়া অনেক ধরনের কম্বাইন হার্ভেস্টার আছে। যা দ্বারা একইসঙ্গে ফসল কাটা, ঝাড়া ও বস্তাবন্দি করা সম্ভব। তাই সরকারি ভর্তুকি বৃদ্ধি ও কম টাকায় দেশীয় প্রযুক্তি তৈরির ক্ষেত্রে জোর দিতে হবে। এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে কৃষি প্রকৌশলীর গ্র্যাজুয়েটরা। পরিশেষে, উল্লিখিত বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিশেষভাবে বিবেচনার করবেন—এমনটাই প্রত্যাশা।
তানিউল করিম জীম
কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি অনুষদ,
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ