সেন্টমার্টিনের অদূরে ৩৯ যাত্রীসহ ট্রলার উদ্ধার
টেকনাফ (কক্সবাজার) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০১৪, ২২:৩৮
সাগরপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাত্রাকালে সেন্টমার্টিনের অদূরে বঙ্গোপসাগর থেকে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে একটি ট্রলারে, ছয়জন মাঝিমাল্লাসহ ৩৯ জনকে উদ্ধার করেছে কোষ্টগার্ড।
কোষ্টগার্ডের সূত্র জানায়, আটক হওয়ার লোকজন সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন। এদের মধ্যে কক্সবাজারের ছয়জন মাঝিমাল্লা রয়েছেন। বাকিরা যশোরে দশজন, নারায়ণগঞ্জের ছয়জন, সিরাজগঞ্জের পাঁচজন, ফরিদপুরের সাতজন, নরসিংদীর তিনজন ও বি-বাড়ীয়ার দুইজন বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
কোষ্টগার্ড টেকনাফ স্টেশনের লেফটেন্যান্ট কমান্ডার কাজী হারুন-অর-রশিদ জানান, গতকাল বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সেন্টমার্টিনের ছেরাদিয়ার কাছাকাছি আনুমানিক তিন কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর থেকে শাহ পরীর দ্বীপের কোষ্টগার্ড স্টেশন কমান্ডার কবির হোসেনের নেতৃত্বে একটি টহলদল ভাসমান একটি ট্রলার দেখতে পেয়ে কোষ্টগার্ড সদস্যরা সেখানে যায়। ওই সময় ট্রলারে থাকা লোকজন দেখে সন্দেহ হলে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তারা সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন বলে স্বীকারোক্তি দেয়। এ সময় তাদের বহনকারী এফভি মিশাল নামে ট্রলারটি জব্দ করে এবং যাত্রীদের উদ্ধার করা হয়। কোষ্টগার্ড উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের খাদ্য সহায়তা ও প্রাথমিক চিকিত্সা দিয়ে সন্ধ্যা সাতটার দিকে থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
আটক ট্রলারের মাঝি নুরুল ইসলাম (৪০) জানান, স্থানীয় বাসিন্দা টিপু সুলতানের মালিকানাধীন ‘এফভি মিশাল’ ট্রলারে করে গত শুক্রবার রাতে কক্সবাজারের ছয় নাম্বার ফিসারিজ ঘাট এলাকা দিয়ে ৩৩ জন যাত্রীসহ সাগরে অবস্থানরত জাহাজের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। কিন্তু চারদিন ধরে সাগরে অবস্থান করেও ওই জাহাজের কোন খোঁজ না পেয়ে জ্বালানি তেল শেষ হওয়ায় গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ভাসমান থাকায় কোষ্টগার্ডের হাতে ধরা পড়ি। টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রনজিত্ কুমার বড়ুয়া বলেন, কোষ্টগার্ড বাদি হয়ে ওই ট্রলারের ছয়জন মাঝিমাল্লাসহ দালালদের বিরুদ্ধে মানব পাচারের মামলা রুজু করা হয়েছে। ৩৩ জনকে যাচাই-বাচাই করে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।