গাজীপুরের সেই লাশ কলাবাগান স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতির
প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০১৪, ২২:৪০
গাজীপুরের ভোগড়া এলাকায় দুইদিন আগে অ্যাম্বুলেন্স থেকে ফেলে দেয়া লাশটি আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতার। সোমবার রাতে গাজীপুর মেডিক্যাল কলেজ মর্গে লাশটি শনাক্ত করেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা। তার নাম শেখ মো. মুনিম ফয়েজ (৪০)। তিনি রাজধানীর কলাবাগান থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি।
রাজধানীর উত্তর ধানমন্ডির ৩৪/এ তার বাসা। খুন হওয়ার আগে ৫ এপ্রিল রাতে অর্থ লেনদেনের বিষয় নিয়ে মুনিম ফয়েজ ধানমন্ডির থানায় গিয়েছিলেন। সেখানে থানার সেকেন্ড অফিসারের কক্ষে ওসির সাথে আলাপ শেষে থানা থেকে বেরিয়ে যান। থানার সামনে থেকে মুনিম ফয়েজকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা অপহরণ করে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যায়। পরদিন সকালে গাজীপুরের ভোগড়া এলাকার ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের পাশ থেকে পুলিশ অজ্ঞাত হিসাবে লাশ উদ্ধার করে।
কলাবাগান থানার ওসি মোহাম্মদ ইকবাল জানান, মুনিম নিখোঁজের বিষয়ে ৬ এপ্রিল তার স্ত্রী মিতু রহমান থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। ডায়েরিতে উল্লেখ করা হয়, তার স্বামী ৫ এপ্রিল বিকালে বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর আর ফিরে আসেননি। রাত ১০ টার পর তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
পত্রিকায় খবর প্রকাশের জের ধরে মুনিমের আত্মীয়-স্বজনরা সোমবার রাতে গাজীপুর মেডিক্যাল কলেজ মর্গে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন। লাশ ময়না তদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে মঙ্গলবার লাশ দাফনের জন্য বাগেরহাটের চিতলমারী থানার বড়গুনী গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। মুনিমের সাত ও তিন বছর বয়সী দুটি মেয়ে রয়েছে।
এদিকে নিহতের ছোট ভাই শেখ ওয়ালিদ ফয়েজ বলেন, শনিবার বিকালে স্ত্রীর সঙ্গে মুনিমের কথা হয়েছিল। ঐ সময় তিনি তার স্ত্রীকে জানান যে, একটা প্রয়োজনে তিনি ধানমন্ডি থানায় যাচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর ফিরবেন বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু রাত ১০ টার মধ্যে না ফিরলে স্ত্রী তার স্বামীর মোবাইল ফোনে কল করে ফোনটি বন্ধ পান।’
ধানমন্ডি থানার ওসি সালেহ মোহাম্মদ মাসুদ করিম জানান, রাত ৯ টার দিকে তিনি সেকেন্ড অফিসার বশীরুল হকের কক্ষে গিয়ে মুনিমের সাথে ৪/৫ মিনিট কথা বলেন। ঐ সময় যুবক নামে একটি প্রতিষ্ঠানের টাকা লেনদেনের মধ্যস্থতা করা হয়। ওসি বলেন, ঘটনার পর মুনিম থানা থেকে বেরিয়ে যান।
ধানমন্ডি থানার সেকেন্ড অফিসার বশীরুল হক জানান, মুনিমের বাড়ি বাগেরহাটের চিতলমারীতে। ধানমন্ডি থানার ওসির বাড়ি একই এলাকায় হওয়ায় মুনিম মাঝে মধ্যেই থানায় ওসির সঙ্গে দেখা করতেন। থানায় প্রবেশপথে সেকেন্ড অফিসারের কক্ষ হওয়ায় মাঝে মধ্যে মুনিম তার রুমে বসে থাকতেন।