দিনে ফুল বিক্রি আর রাতে হোটেলে কাজ করেন আলী
প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০১৪, ২২:৪১
দারিদ্র্যপীড়িত বাংলাদেশে কর্মের সংস্থান সীমিত। কর্ম নেই বলেই বেকারত্বের গ্লানি টানতে হয়। তাই শিক্ষিত তরুণরাও চাকরি নামের সোনার হরিণের পেছনে না ছুটে যোগ দিচ্ছেন ক্ষুদ্র পুঁজির ব্যবসায়। ধার-দেনা করে এমন কিছু ব্যবসা করছে তাতে নিজের জীবন চলে যাওয়ার মত রোজগার হচ্ছে।
দেশের বিপুল জনসংখ্যার কর্মের চাহিদা মেটাতে সরকারের বিনিয়োগ যথেষ্ট নয়। বিনিয়োগ পরিবেশও তেমন নেই। রাজনৈতিক হানাহানির কারণে ব্যাপক সম্ভাবনাময় দেশটি ক্রমেই যেন অনুজ্জ্বল হতে চলেছে। এ যদি রাজনীতিবিদরা বুঝতেন-এমন আক্ষেপ করা ছাড়া খেটে খাওয়া মানুষগুলোর করণীয় কিইবা হতে পারে। তাদেরতো সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকতে হয় শুধু নিজের পেটের ভাত যোগাতেই।
খিলগাঁও বিশ্বরোডে ফুল বিক্রি করেন তাহাবুর আলি। উত্সবে-পার্বণে তার বিক্রি বাড়ে, লাভও বাড়ে। অন্যসময় তেমন বিক্রি নেই। তবু এটিই করতে হবে। আয়ের একমাত্র উত্স। বললেন, শাহবাগ থেকে ফুল কিনে নিয়ে বিক্রি করি। যা পাই, তা দিয়ে সংসার চলে না। পাশাপাশি অন্য কিছুও করি।
পেটের তাগিদে খণ্ডকালীন করে দুইতিন ধরনের কাজ করতে হয় অনেককেই। নইলে পোষাণো যায় না। এই শহরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্যের যা দাম, তাতে সংসার চালানো কষ্টকর। দিনে ফুল বিক্রি করে রাতে একবেলা হোটেলে কাজ করেন আলী। কাজ করতে লজ্জা নেই, তবু সংকোচ করলেন।
ঢাকায় অফিসপাড়ায় দুপুরের খাবার বিক্রি করেও অনেকে আয়ের পথ পেয়েছেন। হোটেলে খেলে প্রচুর টাকা খরচ হয়, তাই বাটিতে করে ঘরের তৈরি এসব খাবার অনেকেরই পছন্দ। বাড়িতে রান্না করে বাটিতে ভরে খাবার নিয়ে যাওয়া হয়। এটি এখন ভাল ব্যবসা। রিক্সায় করে খাবার নেয়ার সময় ফকিরাপুল মোড়ে দেখা হয় মিন্টুর সঙ্গে। বললেন, তার মা বাসায় পাক করেন। প্রতিদিন তারা একশ’ জনের খাবার সরবরাহ করেন।
আরেক উদ্যোগী আমির খসরু। কাওরান বাজার থেকে কাঁচা শাকসবজি কিনে নিয়ে বিক্রি করেন। ভ্যানে করে বিভিন্ন মহল্লায় এসব বিক্রি করে যা আয় করেন তাতে সংসার চলে যায়। তবে কাঁচামাল বিক্রি না হলে পচে যায়। তখন লোকসান গুণতে হয়।
একাজ করতে গিয়ে আমির খসরু টাকা ধার করেন এবং ব্যবসা করে শোধ করে দেন। এখন সামান্য পুঁজি হয়েছে। বাকিতে কেনা লাগে না। তবে বড় উপদ্রবও রয়েছে। পাড়ামহল্লায় বখাটে পোলাপান উত্ত্যক্ত করে। পুলিশের হয়রানিও আছে। ভ্যান দেখলেই পুলিশ চাঁদা দাবি করে। কিন্তু তারা বোঝে না-আমরা কত কষ্ট করে টাকা আয় করি। ক্ষোভের সঙ্গে বললেন, যখন টাকা দেই, তখন তার ছেলেমেয়েদের অভিশাপ দিয়ে দেই। আমাদের ঘামঝরানো টাকা। বিপদে পড়লে কেউ তো দুই টাকা দিয়ে সাহায্য করে না।
গরিব মানুষগুলো দু’মুঠো খেয়ে বেঁচে থাকতে চায়। সেখানেও নানা ঝুটঝামেলা পোহাতে হয়। সেদিকেও সরকারের কোন নজর নেই। অথচ এদের দায়িত্ব সরকারের, মৌলিক নাগরিক সুবিধাগুলো থেকেও এরা বঞ্চিত।