সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে খরা কাটছে

বিগত দুই বছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে খরা অবস্থা কাটিয়ে উঠেছে সরকার। চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথম আট মাসেই বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম হয়েছে। বিগত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি বেড়েছে অন্তত ১১ গুণ! ফলে ঋণ হলেও এটি সরকারের জন্য বড় স্বস্তি এনে দিচ্ছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। এদিকে ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর দাবি তুললেও অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, ঋণ না কমিয়ে বরং এই খাতে বিনিয়োগের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা দরকার। অর্থমন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সঞ্চয়পত্র বিক্রি বাড়বে এমন প্রত্যাশায় সরকার প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ৪ হাজার ৯৭১ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা করে। কিন্তু অর্থবছরের প্রথম আট মাসেই (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) সেই লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে ৬ হাজার ২৪৬ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে বিক্রি ৯ হাজার কোটি টাকা অতিক্রম করবে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে গত ২০১২-১৩ অর্থবছরের প্রথম আট মাসের তুলনায় সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি অন্তত ১১ গুণ বেড়েছে। আলোচ্য সময়ে নিট বিক্রি হয়েছিল ৫৪৩ কোটি টাকা। জানা গেছে, বর্তমানে সঞ্চয়পত্রের বিভিন্ন প্রকল্পের সুদের হার ১১ থেকে সাড়ে ১৩ শতাংশের মধ্যে। এই সুদের হারকে বেশি বলে মনে করেন ব্যাংকাররা। এ জন্য ব্যাংকগুলোকে বেশি সুদে আমানত সংগ্রহ করতে গিয়ে ঋণেরও সুদ বেশি নিতে হচ্ছে। তবে এর সঙ্গে একমত নন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। ইত্তেফাককে তিনি বলেন, সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানো উচিত হবে না। ব্যাংকারদের হয়তো এ বিষয়ে কিছু যুক্তি রয়েছে। কিন্তু তারা ঋণের সুদের হার প্রকৃত অর্থে কমাবেন বলে মনে হয় না। তিনি আরো বলেন, সাধারণত সঞ্চয়পত্রে বিনিযোগ করে চাকরিজীবীসহ স্বল্প আয়ের লোকজন। এজন্য সরকারের কিছুটা বাড়তি ব্যয় হলেও বিনিয়োগকারীদের এতে আকৃষ্ট রাখা দরকার। কারণ মূল্যস্ফীতি সহনীয় রাখতে এটি ভূমিকা রাখে। এক বছরের মধ্যে ভাঙ্গালে সুদ দেয়ার দাবি এদিকে সঞ্চয়কারীদের সঙ্গে কথা বললে তারা কিছু সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তারা জানান, বর্তমানে এক বছরের মধ্যে কেউ সঞ্চয়পত্র ভাঙ্গাতে চাইলে কোন সুদ পান না। বিশেষ প্রয়োজনে সঞ্চয়পত্র ব্যাংকে রেখে ঋণ নেয়ার সুযোগ নেই। এছাড়া কয়েকটি সঞ্চয়পত্রের প্রকল্পে বিনিয়োগের সীমা নির্ধারিত থাকায় চাইলেও কেউ বেশি বিনিয়োগ করতে পারেন না। অন্যদিকে বর্তমানে সঞ্চয়পত্রের সুদের উপর ৫ শতাংশ হারে উেস আয়কর কর্তন করা হয়। মুনাফা দেয়ার সময়ই সঞ্চয়কারীদের কাছ থেকে কর কেটে নেয়া হয়। এই টাকা পরবর্তীতে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় সমন্বয় বা ফেরত নেয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এ সুযোগ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা নিতে পারছেন না। কারণ তাদের অনেকেরই করযোগ্য আয় নেই। আবার অনেকের কর সনাক্তকরণ নম্বরও (টিআইএন) নেই। এব্যাপারে সঞ্চয় অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এসব সমস্যা সমাধানে ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় শিগগিরই ইতিবাচক সাড়া দেবে।