প্রিজনভ্যান থেকে আসামি ছিনতাই :মুখ খুলছে না রিমান্ডের জঙ্গিরা

প্রিজনভ্যান থেকে তিন আসামি (জঙ্গি) সালেহীন ওরফে সানি, রকিবুল হাসান ও বোমা মিজানকে ছিনতাইয়ের ঘটনায় যা বলার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে বলে দিয়েছি। আমাদের আর কিছু বলার নেই। ছিনতাইয়ের ঘটনায় আর যারা জড়িত ছিল তাদের সঙ্গে ঘটনার পর থেকে কোন ধরনের যোগাযোগ হয়নি। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সর্বশেষ এ কথা জানিয়েছে গ্রেফতারকৃত ৬ জেএমবি সদস্য (জঙ্গি)। এরা হচ্ছেন জাকারিয়া ওরফে হিমেল, মো. রাসেল, রাহাত, আজমীর, আল আমিন ও জিতু। ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানায় দায়েরকৃত মামলায় ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তাদেরকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। গতকাল ছিল রিমান্ডের তৃতীয় দিন। এরআগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও সখিপুর থানা পুলিশ দুই দফায় জঙ্গি জাকারিয়া ও রাসেলকে ২৬ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। অপর চার আসামিকেও ডিবি পুলিশ দুই দফায় ১০ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। প্রিজনভ্যান থেকে আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় এ পর্যন্ত পুলিশ রিমান্ডে থাকা ৬ জঙ্গিসহ মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করে। অপর ৪ জন হচ্ছেন জঙ্গি জাকারিয়ার স্ত্রী স্বপ্না, ভাই ইউসুফ, সহযোগী রাজু, সোহরাব হোসেন। দুই দফায় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও পুলিশ জাকারিয়ার শ্বশুর সাব্বিরসহ বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এদিকে প্রিজনভ্যান থেকে পালানো জঙ্গি সালাউদ্দিন সালেহীন ওরফে সানি ও মিজান ওরফে জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমারু মিজানকে দেড় মাসেও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তারা দেশে আছে না বিদেশে পালিয়ে গেছে এ ব্যাপারেও পুলিশ নিশ্চিত হতে পারেনি। প্রিজনভ্যান থেকে আসামি ছিনতাই ও পুলিশ হত্যার ঘটনায় ত্রিশাল থানায় দায়েরকৃত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর মাজেদুর রহমান বলেন, ‘রিমান্ডে থাকা ৬ আসামি অত্যন্ত ধূর্ত প্রকৃতির। তারা একই কথা ঘুরে ফিলে বর্ণনা করছে। তারা প্রিজনভ্যান থেকে পরিকল্পিতভাবে আসামি ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করলেও পলাতক জঙ্গিদের অবস্থান সম্পর্কে একই কথা জানি না, যা বলার ছিল তা বলে দিয়েছি-এসব কথা বলার চেষ্টা করছে। যাতে পলাতক জঙ্গিরা থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে।’ প্রিজনভ্যান থেকে পালানো জঙ্গিদের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘পুলিশ তাদের ধরতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। হাল ছাড়েনি পুলিশ।’ ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি (দক্ষিণ) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন বলেন, ‘জঙ্গিদের অর্থের যোগানদাতা গ্রেফতার হওয়ায় জঙ্গিদের নেটওয়ার্ক ও কর্মকাণ্ড অনেকটা ঝিমিয়ে পড়েছে। গ্রেফতার আতংকে যে যার মত আত্মগোপনে রয়েছে। তাদেরকে গ্রেফতারে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ বিভিন্ন জেলা পুলিশের সহায়তা নিয়ে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।’ পালানো জঙ্গি সালেহীন ও বোমা মিজান সম্পর্কে তিনিও কোন মন্তব্য করেননি। তবে তিনি বলেন, জঙ্গিদের টোটাল কর্মকাণ্ড পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোয়েন্দাদের হাতে রয়েছে। আর সে তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট পলাতক জঙ্গি গ্রেফতার ও দমনে কাজ করে যাচ্ছে। গত ২৩ ফেব্রয়ারি সকালে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে ময়মনসিংহ আদালতে হাজিরা দেয়ার জন্য জেএমবির মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রাকিব, সালেহীন ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বোমারু মিজানকে প্রিজনভ্যানে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ত্রিশালের আমিরবাড়ী সাইনবোর্ড এলাকায় পৌঁছামাত্র ওতপেতে থাকা তাদের সহযোগীরা প্রিজনভ্যানের গতিরোধ করে গুলি বর্ষণ করে। এসময় নিহত হন পুলিশ কনস্টেবল আতিক। আহত হন আরও দুই পুলিশ সদস্য। কয়েক ঘন্টার মধ্যে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে গ্রেফতার হয় জঙ্গি রাকিব এবং ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত জাকারিয়া ও রাসেল। পরবর্তীতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয় রাকিব।