বিজেপি ও কংগ্রেসের ইশতেহারে প্রতিশ্রুতির ধরনে বৈচিত্র্য নেই

চলতি লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস এবং ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) যে নির্বাচনী ইশতেহার দিয়েছে তাদের উভয়টিতে ভারতের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবি করা, নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং বিভিন্ন কল্যাণ কর্মসূচি গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। ইশতেহার দু’টিতে তেমন বৈচিত্র্য নেই। বিজেপি তার ইশতেহারের শ্লোগান দিয়েছে ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’। ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানের যে ছবি প্রকাশ করা হয়েছে তাতে দেখা গেছে সিনিয়র নেতাদের সাথে নরেন্দ্র মোদী অবস্থান করছেন। সোমবার এই ইশতেহার প্রকাশ করা হয়। এর আগে ২৬ মার্চ প্রকাশ করা কংগ্রেসের ইশতেহারের শিরোনাম ছিল ‘আপনাদের কণ্ঠ, আমাদের প্রতিশ্রুতি’। সেখানেও রাহুল, সোনিয়া, মনমোহনের প্রায় একই ধরনের একটি ছবি প্রকাশ করা হয়। বিজেপির ইশতেহারে পানি নিরাপত্তা, বাহ্যিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পারমাণবিক কর্মসূচি ইত্যাদি নিয়ে বিশদ প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। তাছাড়া দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং দুর্নীতি নিয়ে নানারকম প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কংগ্রেসের ইশতেহার অর্থনীতি, আর্থ-সামাজিক, এবং রাজনীতি সংশ্লিষ্ট ১৫ দফা এজেন্ডা নিয়ে শুরু হয়েছে। বিজেপি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে একটি মূল্য স্থিতিশীল তহবিল রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। দলটি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘নীতি পক্ষাঘাতের’ অভিযোগ করেছে এবং বলেছে যে তারা আভ্যন্তরীন এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ নীতি পর্যালোচনা করবে, ব্যাংকনীতি পুনর্গঠন করবে এবং সঞ্চয়ে উত্সাহিত করবে। অপরদিকে, কংগ্রেস বলেছে, তারা আবার ক্ষমতায় এলে ১০০ দিনের মেয়াদে একটি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করবে। তারা নতুন কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। কংগ্রেস সবার জন্য স্বাস্থ্যের অধিকারের প্রসঙ্গও তুলেছে। বিজেপির ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দেখে কংগ্রেস অভিযোগ করেছে, তাদের ইশতেহার দেখে বিজেপি কিছু বিষয়ে আইডিয়া নিয়েছে এবং সেগুলো নকল করেছে। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ বলেছেন, বিজেপি যে তাড়াহুড়ো করে ইশতেহার তৈরী করেছে তা বুঝতে কষ্ট হয় না। কংগ্রেসের মুখপাত্র অভিষেক মানু সিংভি বলেছেন, বিজেপি নকল করে তার ইশতেহার তৈরী করেছে।