আমরা বিশেষ সময় পার করছি

জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রেসিডিয়াম সদস্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, আমরা একটি বিশেষ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। অনেকে কী কারণে মধ্যবর্তী নির্বাচনের কথা বলছেন জানি না। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হয়েছে পাঁচ বছরের জন্য। আগামী নির্বাচন কীভাবে হবে, সেটি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে সেই নির্বাচন অবশ্যই সাংবিধানিক রূপরেখার মধ্যে এবং নির্বাচিত সরকারের অধীনেই হতে হবে। সংবিধানের সময়সীমার মধ্যে কিংবা প্রধানমন্ত্রী চাইলে যে কোনো সময় নির্বাচন দিতে পারেন, এটা তার এখতিয়ার। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ব্যারিস্টার আনিস বলেন, নির্বাচনের আগে সুশীল সমাজের একটি কথা ছিল, বিএনপিকে ছাড়া নির্বাচন করা যাবে না। নবম সংসদে বিএনপির আসন ছিল ২৯টি, জাপার ছিল ২৭টি। সেদিন যদি জাপা নির্বাচনে না যেতো, তাহলে কী নির্বাচন হতো না? কোনো একটি দলের জন্য তো নির্বাচন থেমে থাকতে পারে না। এই সুশীল সমাজ একবারও কিন্তু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাস, বোমাবাজি ও সহিংসতা সম্পর্কে কিছু বলেনি। আমার দাবি, যেসব রাজনৈতিক দলের কারণে এতগুলো মানুষ মারা গেছে, এর দায়িত্ব ওইসব দলেরই নেয়া উচিত। তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারি নির্বাচন না হলে হয়তো একটি অসাংবিধানিক সরকার আসতো। তারা (সুশীল সমাজ ও বিএনপি) সেটি চাইলে উন্মুক্তভাবে বলুক যে, আমরা নির্বাচন চাই না, আমরা অসাংবিধানিক সরকার চাই। কিন্তু গণতন্ত্রের নামে অসাংবিধানিক সরকার প্রতিষ্ঠা হতে পারে না। পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর এবারই প্রথমবারের মতো একটি নির্বাচিত সরকার আরেকটি নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছে। এটাই গণতন্ত্রের নির্যাস। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাপা বা কোনো দলের জন্য নয়, তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাদ দিয়ে সেদিন সংবিধান সংশোধন করতে হয়েছিল উচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী। বিগত আমলে সংসদে কার্যত কোনো বিরোধী দল ছিল না। সুতরাং তত্ত্বাবধায়ক থাকলেই যে সংসদ কার্যকর হয়, এটা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার পরিবর্তনের একমাত্র পন্থা নির্বাচন। সহিংসতা বা সন্ত্রাস দিয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও সংবিধান পরিবর্তন করা যাবে না। নির্বাচনে জাপার অংশগ্রহণের কারণ ব্যাখ্যা করে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ’৯১, ৯৬ ও ২০০১ সালেও নানা প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও জাপা নির্বাচনে গিয়েছিল। এরশাদকে জেলে রেখেও এই দল নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। জাপা কখনও নির্বাচনের বাইরে থাকেনি। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড বিল উত্থাপন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ রহিত করে সংশোধন ও পুনঃপ্রণয়নের লক্ষ্যে গতকাল সংসদে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, ২০১৪’ উত্থাপিত হয়েছে। বিলটি উত্থাপন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উ শৈ সিং। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চার সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট দেয়ার জন্য বিলটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।