পানির অভাব, অভিযোগে মেলে না প্রতিকার

মিরপুরে চরম ভোগান্তি

 অবৈধ লাইনের কারণে এলাকায় পানির সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করছে, সংযোগ বন্ধে নির্বিকার ওয়াসা

রফিকুল ইসলাম রবি

তীব্র দাবদাহে নগর জীবন হাঁসফাঁস। তার উপর নেই পানি। তাও আবার রমজানে। ফলে  চরম ভোগান্তিতে আছেন রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দারা। সেহরি-ইফতারের সময়ও পানি পাওয়া যাচ্ছে না মিরপুরের কোনো কোনো এলাকায়। কিছু এলাকায় পানি থাকলেও তা ব্যবহার অনুপোযোগী। তবে এসব যেন দেখার কেউ নেই। ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের কাছে অভিযোগ করে প্রতিকার পান না বাসিন্দারা। অভিযোগ এড়াতে ওয়ার্ড কাউন্সিলররা নাগরিকদের এড়িয়ে চলেন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।   

 জানা গেছে,  শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, দক্ষিণ মনিপুর, উত্তর কাফরুল, কল্যাণপুর, মিরপুর-১, ২, ৬, ১০, ১৪ নম্বর সেকশন, রূপনগর আবাসিক, মিরপুর ১৩-এর সি ব্লকে ১ নম্বর রোড, কচুক্ষেত, পশ্চিম বাইশটেকি, দারুস সালাম রোড এলাকায় পানির সমস্যা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। পানির অভাবে রান্না খাওয়া বন্ধ হওয়ার মতো অবস্থা। এসব এলাকায় কোথাও পানি নেই, কোথাও ২৪ ঘন্টায় একবার পানি মেলে। আবারও কোথাও পানিতে ময়লা ও দুর্গন্ধ। ফলে পানির কষ্টে অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে ওইসব এলাকার বাসিন্দারা।

কাজীপাড়া সেনপাড়া এলাকার গৃহবধূ শাহানা বেগম বলেন, একদিকে রমজান, অন্যদিকে গরম, তার ওপর পানির সংকট। তাহলে বোঝেন কতটা কষ্টে আছি। দিনে একবার পানি আসে। সেই পানি ধরে রেখে সারাদিনের কাজ সারতে হয়। কোনোদিন পানি ধরে রাখতে না পারলে সেদিনের রান্না-খাওয়া বন্ধ।    

শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া এলাকায় পানির সমস্যা দীর্ঘদিনের। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট বাড়ে। পুরো মিরপুরের নিচু এলাকার কিছু কিছু জায়গায় পানি থাকলেও, উঁচু এলাকাগুলোতে পানি থাকে না। গত বছরও একই সময় পানির সংকট দেখা গেছে। এজন্য রাস্তায় নেমে আন্দোলনও করেছিলেন শেওড়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সালাম। তিনি জানান, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া এলাকার পানির সংকটের বিষয়টি ওয়াসার জানা। গ্রীষ্মে এখানে কোথাও পানি থাকে, কোথাও থাকে না। আমরা বিভিন্ন সময় রাস্তায় নেমে এর প্রতিবাদ জানিয়েছি। তবে কর্তৃপক্ষ শুষ্ক মৌসুমের আগে কোনো প্রস্তুতি নেয়নি।

 জানা গেছে,  সেনপাড়া পর্বতা, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, পীরের বাগ, মনিপুর, বড়বাগ ও মিরপুর ১০ নম্বর সেকশন অর্থাত্ মিরপুরজুড়ে বিভিন্ন এলাকা ও বস্তিতে অসংখ্য অবৈধ সংযোগের ছড়াছড়ি। এসব বস্তিঘরের নেই কোনো হোল্ডিং নম্বর। বিভিন্ন অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠান ও বস্তিতে অবৈধ লাইনের কারণে মিরপুর ও আশেপাশে এলাকায় পানির সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। অথচ ওইসব অবৈধ সংযোগ বন্ধে নির্বিকার ওয়াসা। বকেয়া আদায়ে মাঝেমধ্যে অভিযান চালালেও অবৈধ লাইন যেন দেখেও না দেখার ভান করে। কারণ সংস্থাটির কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী অবৈধ সংযোগ দিয়ে পকেট ভারি করছেন। কোনো বিলের রশিদ ছাড়াই কারখানা ভেদে নেওয়া হচ্ছে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা।

অন্যদিকে পানি সংকট পুঁজি করে ওয়াসার একশ্রেণির কর্মচারী বেশি দামে পানি বিক্রির অভিযোগ তো আছেই। সরকারিভাবে এক গাড়ি পানির দাম ৫শ টাকা হলেও পানির লরির চালকরা সেই পানি ১ হাজার থেকে ১২শ টাকায় বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পশ্চিম শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা তাজুল ইসলাম বলেন, পানি পাওয়া নাগরিকদের অধিকার হলেও, সেই পানি নিয়েও যত অবৈধ ব্যবসা। টাকা খরচ করেও ওয়াসার এক গাড়ি পানি পাওয়া যায় না। প্রতি গাড়িতে ২০০-৫০০ টাকা ঘুষ দিলে পাওয়া যায় পানি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তারা ঢাকা ওয়াসার কাছে একাধিকবার অভিযোগ করার পরও সংকট নিরসনে উদ্যোগী হচ্ছে না কর্তৃপক্ষ।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়াসার পরিচালক (কারিগরি) একেএম শহীদউদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, দুই-তিনদিন আগে মিরপুর এলাকায় হয়তো পানির সমস্যা ছিল, এখন সমস্যার কথা আমি শুনিনি। আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ করে না। আমাদের কাছে অভিযোগ করলে আমরা সমস্যা সমাধান করে দেই।