বরিশালে বর্ষবরণে ব্যাপক প্রস্তুতি মূল আকর্ষণ- মঙ্গল শোভাযাত্রা

বাংলা নববর্ষ বরণে বরিশালে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। বিশেষ করে মঙ্গল শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে চলছে নানা আয়োজন। চারুকলা ও উদীচী মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজক হলেও এখানকার সকল সাংস্কৃতিক সংগঠন-এর সাথে যুক্ত হয়ে পড়েছে। চারুকলার ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষক থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীরা দিন-রাত ব্যস্ত মুখোশ, হাতপাখা, বাঁশি, কৃত্রিম কাক, জাতীয় ফুল শাপলাসহ নানা আকর্ষণীয় জিনিসপত্র তৈরিতে। চারুকলার শিল্পীরা এবার তৈরি করছে বৃহত্ আকারের বাঘ, ষাঁড়। বিশাল কৃত্রিম ঘোড়াও থাকছে মঙ্গল শোভাযাত্রার অগ্রভাবে। এ সব তৈরি প্রায় শেষ, এখন রং তুলির আঁচড়ে আকর্ষনণীয় করে তোলা হচ্ছে। ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে রাখি, মুকুট, মুখোশসহ নানান সামগ্রী। পহেলা বৈশাখের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে ততই তাদের ব্যস্ততা বাড়ছে। চারু শিল্পীদের চোখে ঘুম নেই। দিন-রাত তারা ব্যস্ত বাঙালির ঐতিহ্যবাহী আকর্ষণীয় সব জিনিসপত্র তৈরিতে। টানা প্রায় ৩ দশক ধরে এ মঙ্গল শোভাযাত্রা প্রতি বাংলা নববর্ষে বের হচ্ছে নগরীর বিএম স্কুল মাঠ থেকে। আগে শোভাযাত্রার আয়োজন সীমিত হলেও এখন এ শোভাযাত্রায় যোগ দিতে ভিড় করেন নগরীর হাজার হাজার মানুষ। নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী, শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সামিল হন বর্ণময় এই মঙ্গল শোভাযাত্রায়। অসামপ্রদায়িক এই উত্সব আয়োজনে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন চারুকলা ও উদীচীর শিল্পী সংগঠকরা। আয়োজক সংগঠনের নেতা মুরাদ আহমেদ ও সাইফুর রহমান মিরন ইত্তেফাককে জানান- এবার মঙ্গল শোভাযাত্রার উদ্বোধন করবেন মুজিবনগর সরকারের গার্ড অব অনার প্রদানকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহাবুব উদ্দিন আহম্মেদ (বীর বিক্রম) ও প্রথিত যশা প্রকৃতিবিদ ও লেখক দ্বিজেন শর্মা। রাখি বন্ধনের মধ্য দিয়ে এ শোভাযাত্রার উদ্বোধন হয়ে থাকে। এবার সকাল ৮টায় দু’শিশুর হাতে রাখি পরিয়ে উত্সবের সূচনা করা হবে। এরপর ঢাকের তালে তালে ও বাঁশির সুরে শোভাযাত্রা এগিয়ে যাবে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শোভাযাত্রাটি সদর রোডস্থ সিটি কলেজ প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হবে। শোভাযাত্রা শেষে সকাল ৯টায় বরিশাল সিটি কলেজ প্রাঙ্গণে শুরু হবে লোকজ সংস্কৃতি প্রদর্শনী। বিভাগীয় কমিশনার মোঃ গাউস এর উদ্বোধন করবেন। সন্ধ্যা ৭ টায় বরিশাল সিটি কলেজ প্রাঙ্গণে আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। প্রধান আলোচক থাকবেন জেলা প্রশাসক মোঃ শহীদুল আলম। বিএম কলেজ মাঠে তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা শুরু হবে সন্ধ্যায়। এ ছাড়া আমানতগঞ্জে চাঁদের হাট বর্ষবরণে বৈশাখী মেলা, পান্তা ইলিশ খাওয়া এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। আমানতগঞ্জ টিবি স্কুলের মাঠে অনুষ্ঠিত হবে এ উত্সব। সিলেটে ৫ দিনব্যাপী আয়োজন সিলেট অফিস জানায়, নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে সিলেট সিটি কর্পোরেশন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ৫ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার মধ্যে রয়েছে শোভাযাত্রা, বৈশাখী মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, চিত্রাংকন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা। নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে সিলেটের সাংস্কৃতিক সংগঠকদের নিয়ে গত সোমবার এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। নগরভবন সভাকক্ষে আয়োজিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সিলেট সিটি কর্পোরে-শনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।