সায়াদ হত্যাকাণ্ডে ছাত্রলীগের ৬ জনকে বাকৃবি থেকে বহিষ্কার
প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:৩৫
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থী সায়াদ ইবনে মমতাজ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ছয় ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার জরুরি সিন্ডিকেট সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবদুল খালেক এসব তথ্য জানান।
আজীবন বহিষ্কৃতরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের আশরাফুল হক হল ছাত্রলীগের গত কমিটির যুগ্ম-সম্পাদক এবং কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের মাস্টার্স (ফিন্যান্স) শিক্ষার্থী রেজাউল করিম রেজা, মাত্স্যবিজ্ঞান অনুষদের অনার্স ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ও একই হলের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজয় কুমার কুণ্ডু এবং একই অনুষদের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ও হলের ছাত্রলীগ কর্মী রোকনুজ্জামান রোকন। অন্যদিকে চার বছরের জন্য বহিষ্কৃতরা হলেন- কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ৪র্থ বর্ষের ও একই হলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল শাহাদাত রাসেল ও একই অনুষদের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছাত্রলীগ কর্মী দেওয়ান মো. মুফরাত। এছাড়া পশুপালন অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মী অন্তর চৌধুরীকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এসব সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। গতকাল আন্দোলনের এক পর্যায়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল হক শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন। উপাচার্য জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরে শিক্ষার্থীরা আবারো বিক্ষোভ মিছিল বের করে নতুন প্রশাসনিক ভবন ও কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সায়াদ হত্যায় সুজয় ও রোকনের স্বীকারোক্তিতে ১৪ জনের নাম আসলেও শুধু ৬ জনকে শাস্তি দেয়া হয়েছে। তাছাড়া আমাদের দাবি ছিল- অভিযুক্তদের নাম উল্লেখ করে প্রশাসনকে মামলা করতে হবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনো তা করেনি। সায়াদ হত্যায় জড়িত অনেকেই এখনো ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। গতকাল বিকাল পর্যন্ত প্রশাসন ভবন, কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ে তালা লাগানো ছিল।
সায়াদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছয় ছাত্রের বহিষ্কারাদেশকে আংশিক আখ্যা দিয়ে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে তিন দফা দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক সমিতি। দাবিগুলো হলো- ব্যর্থতার দায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা, প্রক্টরিয়াল বডি, সংশ্লিষ্ট হল প্রশাসন অপসারণ এবং একটি টাস্ক ফোর্স গঠন।