মন ভোলানো প্রতারণা :তরুণীসহ গ্রেফতার ৬
প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:৩৮
রাজধানীতে প্রবাসী ব্যবসায়ী, প্রকৌশলী ও রাজনৈতিক নেতাদের ‘মন ভুলিয়ে’ প্রতারণার অভিযোগে তরণীসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি টিম মঙ্গলবার মিরপুর মধ্য পাইকপাড়া এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করে। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে ওয়্যারলেস সেট, হ্যান্ডকাফ ও ডিজিটাল ক্যামেরা। ডিবি পুলিশ তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল বুধবার ৮ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো- দলনেতা আবু তালেব (৬৮), তার স্ত্রী সালমা বেগম (৪৫), ছেলে শামীম শিকদার (২৫), ভাতিজি দোলা আক্তার (২০), সহযোগী আজাহার উদ্দিন খান (৪২) ও মোস্তফা।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি (দক্ষিণ) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন জানান, গ্রেফতারকৃত আজাহার উদ্দিন খানসহ অন্যরা গত বছর ২৬ আগস্ট মিরপুর বিআরটিএ’র সামনে থেকে লন্ডন প্রবাসী এক ব্যবসায়ীকে নারীর প্রলোভন দেখিয়ে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। পরে তরুণী দোলার সাথে আপত্তিকর ছবি তুলে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তার কাছ থেকে ২৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করে ছেড়ে দেয়। এরপর গত ২০ ফেব্রুয়ারি সরকারি এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে (প্রকৌশলী) একই প্রলোভন দেখিয়ে মিরপুরের একটি বাসায় ডেকে নেয়। পরে একই কায়দায় দোলার সঙ্গে আপত্তিকর ছবি তোলে। তার কাছ থেকে ১৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করে ছেড়ে দেয়। সর্বশেষ এ প্রতারকচক্রের শিকার হন একজন রাজনৈতিক নেতা। তার কাছ থেকে একই কায়দায় ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঐ চক্রের সদস্যরা সটকে পড়ে। পরে গোয়েন্দা পুলিশ ঐ রাজনৈতিক নেতাকে উদ্ধার করে। আর উদ্ধারকৃত ব্যক্তির দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রতারক চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
অভিযান পরিচালনাকারী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এসি (দক্ষিণ) রহমতউল্লাহ চৌধুরী জানান, গ্রেফতারকৃতরা গত দেড় বছর ধরে বিভিন্ন পেশার লোকজনের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একমাত্র দোলা ঢাকায় থাকে। অন্যরা নির্ধারিত দিনে (প্রতারণার জন্য) মাসে একবার কি দুই বার গ্রাম থেকে ঢাকায় আসে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আবু তালেবের বাড়ি বাগেরহাটে, আজাহার উদ্দিনের বাড়ি পটুয়াখালী ও মোস্তফার বাড়ি খুলনায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দোলা জানিয়েছে, আবু তালেব তার আপন চাচা। তাদের প্রতারণা চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন বিত্তশালী ব্যক্তিকে টার্গেট করে ফোন নম্বর সংগ্রহ করে। পরে দোলা তাদের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে কৌশলে একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে ফাঁদে ফেলে। সাথে সাথেই ভুয়া গোয়েন্দা এসি আবু তালেবের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে একটি দল ভুয়া ফটো সাংবাদিকসহ প্রবেশ করে জোরপূর্বক দোলার সঙ্গে আপত্তিকর ছবি তুলে ব্ল্যাকমেল করে। তারা ভিকটিমের মোবাইলের মাধ্যমে পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে নানা কৌশলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। টাকা দিতে গড়িমসি করলে তাদের একজনকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে সামাজিকভাবে হেয় করার ভয় দেখায়। এভাবে বেশকিছু টাকা আদায় করার পরও তাদের কাছ থেকে দফায় দফায় চাঁদা আদায় করে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আজাহার নিজেকে ডিবি ইন্সপেক্টর, মোস্তফা সাব-ইন্সপেক্টর, আবু তালেব নিজেকে পুলিশের এসি এবং শামিম শিকদার নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকে। ডিবি এডিসি ছানোয়ার হোসেন জানান, প্রথম দফায় তরুণী দোলা টার্গেট ব্যক্তির সঙ্গে ‘মন ভোলানো’ সর্ম্পক গড়ে তোলে। যাতে বিশ্বাস তৈরি হয়। এরপর দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় দফায় ঐ ব্যক্তির সঙ্গে ব্ল্যাকমেল করে।