রানা প্লাজা :১০৫ জনের পরিচয় জানা যাবে না
প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:৩৯
সাভারের রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় ১০৫ লাশের পরিচয় শনাক্ত হচ্ছে না। তবে পরিচয় শনাক্তের জন্য ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি (এনএফডিপিএল) সরকারের কাছে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত চেয়েছে। এই শনাক্ত করতে হলে পূর্বে হস্তান্তর করা ৮১২টি লাশের আত্মীয়-স্বজনদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। শনাক্তহীন ১১২ জনের মধ্যে ৭ জনের পরিচয় শনাক্ত করতে পেরেছে এনএফডিপিএল। কয়েকদিন আগে এই ৭ জনের পরিচয় শনাক্তের ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট এনএফডিপিএল সরকারের কাছে জমা দিয়েছে।
এনএফডিপিএল’র জাতীয় কারিগরি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শরীফ আখতারুজ্জামান ইত্তেফাককে জানান, ১০৫ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। অশনাক্তদের শনাক্ত করার ব্যাপারে সরকারের কাছে একটি সুপারিশ দেয়া হয়েছে। এটি অনেক সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। সরকার যদি সিদ্ধান্ত দেয় তবেই সেই অনুযায়ী কাজ করা হবে।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের এনএফডিপিএল সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দফায় ডিএনএ পরীক্ষায় ১৫৭ জনের লাশ শনাক্ত করার পর বাকি ১৬৫টি লাশের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জটিলতা সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ডিএনএ বিশ্লেষকরা পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আরো ৪২ লাশ শনাক্ত করতে সক্ষম হন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অজ্ঞাত এসব লাশের মা, বাবা, ভাই, বোন, ছেলে-মেয়ে হিসেবে স্বজন দাবিদার ৫৪৮ জন তাদের রক্ত নমুনা দেয় ল্যাবরেটরিতে। লাশের ডিএনএ রূপরেখা (প্রোফাইল) তৈরিশেষে মিল-অমিল খুঁজতে ৩২২টি নমুনার বিপরীতে ফাইল হয় এক লাখ ৭৬ হাজার ১৩৪টি। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ৩২২টি লাশ হিসাবে নমুনা দেয়া হলেও এর মধ্যে ১১ জনের নমুনা দুইবার করে দেয়া হয়েছে। অর্থাত্ ১১ জনের অঙ্গ-প্রতঙ্গ ২২ জনের লাশ হিসাবে দেয়া হয়েছে। এ বিষয়টি ডিএনএ পরীক্ষায় ধরা পড়ে। এ হিসেবে লাশের প্রকৃত সংখ্যা হবে ৩১১।
গত বছরের ৩ নভেম্বর প্রথম দফায় ১৫৭ এবং গত ৯ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দফায় ৩৫ লাশের ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন জমা দেয়া হয় শ্রম মন্ত্রণালয়ে। তৃতীয় দফায় গত ৭ এপ্রিল আরো ৭ জনের লাশ শনাক্ত করে শ্রম মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন এনএফডিপিএল’র জাতীয় কারিগরি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শরীফ আখতারুজ্জামান। কিন্তু এখন বাকি ১০৫ পোশাক শ্রমিকের লাশ শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ হিসেবে ডিএনএ বিশ্লেষকরা বলছেন, ৫৪৮ জন স্বজন দাবিদারের দেয়া রক্তের নমুনায় ডিএনএ পরীক্ষায় মিল (ম্যাচিং) খুঁজে পাওয়া যায়নি। তারা মনে করছেন, দুর্ঘটনার পরে যেসব লাশ স্বজনরা শনাক্ত করেছেন কিংবা হস্তান্তর করা হয়েছে তা হয়তো নির্ভুলভাবে হয়নি। অনেক লাশ বিকৃত হওয়ায় জামা-কাপড় দেখে শনাক্ত করেছেন স্বজনরা। সেসময় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রশাসনও লাশ দাবিদার স্বজনদের সঠিকভাবে যাচাই করতে পারেনি। দ্রুততার সঙ্গে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। একারণে পরীক্ষায় যেসব স্বজনের ডিএনএ রূপরেখায় মিল পাওয়া যায়নি তাদের দাবিকৃত লাশ হয়তো অন্যত্র হস্তান্তরিত হয়েছে।
এনএফডিপিএল’র জাতীয় কারিগরি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শরীফ আখতারুজ্জামান জানান, ঐ সময় হস্তান্তর করা ৮১২ লাশের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করার বিষয়টি অনেক জটিল। কারণ প্রত্যেক কবর থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা অনেক সময় দুঃসাধ্য ব্যাপার। এজন্য ঐ ৮১২টি লাশের আত্মীয়-স্বজনদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা যেতে পারে। এই ডিএনএ নমুনা বিশ্লেষণ করার পর অশনাক্ত ১০৫ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গত বছরের ২৪ এপ্রিল সাভার বাসস্ট্যান্ডে ১০ তলা ভবন রানা প্লাজা ধসে বহু পোশাককর্মী হতাহত হয়। সরকারের হিসেবে দুর্ঘটনায় এক হাজার একশ ৩৪ জন মারা যায়। এরমধ্যে ৮১২টি লাশ দাবিদার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বাকি ৩২২টি লাশের নমুনা ডিএনএ পরীক্ষার জন্য এনএফডিপিএল-এ পাঠানো হয়। বেওয়ারিশ হিসেবে লাশগুলো আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলামের মাধ্যমে দাফন করা হয় রাজধানীর জুরাইন কবরস্থানে। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য দেয়া নমুনার সঙ্গে মিল রেখে কবরস্থানে একটি শনাক্তকরণ নম্বর দেয়া হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে।