সরকারি এলপি গ্যাস ৭শ’ থেকে হচ্ছে ১২শ’ টাকা

আগামী কিছুদিনের মধ্যে সরকারি পর্যায়ের বোতলজাত এলপি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি হচ্ছে। সামপ্রতিক সময়ে এলপিজি’র মূল্য পুনঃনির্ধারণের একাধিক বৈঠক শেষে এ সপ্তাহে বিপিসি এলপিজি’র পুনঃনির্ধারিত মূল্যের প্রস্তাবনা জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। বিপিসি’র চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত প্রস্তাবনায় ৭০০ টাকার স্থলে বাড়িয়ে ১২শ’ টাকা ধরা হয়েছে। বর্তমানে বিপিসি’র নিয়ন্ত্রণাধীন বিপণন কোম্পানিসমূহ তাদের ডিলারদের নিকট ৬৭৮ টাকায় বিক্রি করে থাকে। বিপিসি’র নির্দেশনা অনুযায়ী ভোক্তাদের নিকট তা ৭০০ টাকা করে এলপিজি বিক্রি করার বিধান রয়েছে। সাড়ে ১২ কেজির গ্যাস ৭০০ টাকার স্থলে ডিলারগণ ভোক্তাদের নিকট ১২ শ’ থেকে ১৪/১৫ শ’ টাকায় বিক্রি করে থাকেন। বিপিসি’র প্রস্তাবনা পত্রে বলা হয়, সরকার যে সকল অঞ্চলে প্রাকৃতিক গ্যাসের সংযোগ নেই সে সকল এলাকায় স্বল্পমূল্যে এলপিজি সহজলভ্য করার উদ্দেশ্যে এলপি গ্যাসের মূল্য ভোক্তা পর্যায়ে ৭০০ টাকায় নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু বাস্তবে ভোক্তা সাধারণ সে মূল্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে করে বিপিসি তথা সরকার ভর্তুকি মূল্যে জনগণের জন্য দেয়া সুবিধার সুফল পায় না। অথচ সরকার বিশাল অংকের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। সরকারি পর্যায়ের বিপণন কোম্পানিসমূহের গ্যাস সিলিন্ডারের মূল্য অনেক কম থাকায় বিপণন কোম্পানিগুলো থেকে গ্যাস নেয়ার জন্য তদ্বির চলতে দেখা যায়। আবার বিপণন কোম্পানির কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে কিংবা প্রভাবশালীদের চাপে পড়ে অনেককে বেশি সিলিন্ডার দিয়ে থাকেন। বিপণন কোম্পানিসমূহের মধ্যে একটি কোম্পানির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ রয়েছে। জানা যায়, ওই কোম্পানি এক কর্তাব্যক্তি নির্দিষ্ট ২/৩ জন ডিলারের মাধ্যমে নিজেই ব্যবসা করে থাকেন। কাগজে-কলমে বিভিন্ন ডিলারের মধ্যে বণ্টনের কথা বলা হলেও বাস্তবে নির্দিষ্ট ২/৩টি ডিলারের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি বিক্রি করে থাকেন। এ ব্যাপারে দুদক থেকে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানা যায়। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রায় ১ লক্ষ টন এলপি গ্যাস বোতলজাত করা হয়। এর মধ্যে সরকারি পর্যায়ে বিপিসি’র মালিকানাধীন এলপি গ্যাস লিমিটেড বছরে প্রায় ২০ হাজার টন এলপি গ্যাস বোতলজাত করছে। বিপিসি’র অঙ্গ প্রতিষ্ঠান এলপিজি লিমিটেড বছরে বিপিসি’র আওতাধীন অপর প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি লিঃ (ইআরএল) হতে প্রায় ১৪ হাজার টন এবং পেট্রোবাংলার আওতাধীন কোম্পানি রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিঃ (আরপিজিসিএল) হয়ে প্রায় ৬ হাজার টন লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস ক্রয় করে। এলপিজি লিমিটেড ইআরএল হতে সংগৃহিত গ্যাস চট্টগ্রামস্থ প্ল্যান্টে বোতলজাত করে। আরপিজিসিএল হতে সংগৃহীত গ্যাস এলপিজিএল’র কৈলাশটিলা প্ল্যান্টে বটলিং করে। এলপিজি লিমিটেড প্রতিটি সিলিন্ডারে সাড়ে ১২ কেজি গ্যাস বোতলজাত করে। কিন্তু বিপিসি থেকেও অভিযোগ রয়েছে সরকারি গ্যাস সিলিন্ডার থেকে অনেক অসাধু ডিলার কিছু গ্যাস বের করে ফেলে। এর ফলে ভোক্তারা প্রকৃত ওজনের গ্যাস পায় না। বিপিসি থেকে বলা হয়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিপিসি’র কোন অফিস না থাকায় গ্যাসের মূল্য মনিটরিং করা সম্ভব হয় না। তাছাড়া এলপিজি’র মূল্য ২০০৯ সালে সর্বশেষ নির্ধারণ করা হয়েছিল। বর্তমানে বিপিসি বছরে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার খাতে প্রায় ১১৫ কোটি টাকা লোকসান দিচ্ছে। বিপিসি’র মতে এলপিজি’র মূল্য প্রস্তাব অনুযায়ী নির্ধারণ করা হলে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ীদের মধ্যে সুস্থ ধারার ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা ফিরে আসবে।