মোদি ঝড়েও টিকে রইলেন মমতা ব্যানার্জি। তৃণমূলের ফল বিপর্যয় না হলেও প্রায় ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলছে বিজেপি। প্রবলভাবে উঠে এসেছে দ্বিতীয় শক্তি হিসেবে। লোকসভা আসনের প্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল ২২, বিজেপি ১৯ আসন পেতে চলেছে। জাতীয় কংগ্রেসের ঝুলিতে গেছে মাত্র ১টি। খুব খারাপ অবস্থা বামেদের। তারা কোনো আসন পায় নি। বেশিরভাগ আসনেই তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
ফল প্রকাশের পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ট্যুইটারে বলেছেন, ‘জয়ীদের অভিনন্দন; কিন্তু যারা হেরেছেন, তারা সবাই হারেননি। আমাদের একটা পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ করতে হবে এবং তার পরে আমরা আমাদের মতামত আপনাদের জানাব।’ বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি বলেছেন, এতদিন আমরা জিততে শিখি নি, আজ শিখে গেলাম। পশ্চিমবঙ্গে যে কুশাসন চলছে, তারই প্রতিফলন আজকের ফলাফল।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে একের পর এক আসনে বিজেপির এগিয়ে আসার খবর আসতে থাকে। সকাল থেকে একের পর এক আসনে বিজেপির এগিয়ে যাওয়ার খবর আসতেই কিছুটা হতবাক তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা। অন্য দিকে উল্লাসে ফেটে পড়েছেন বিজেপি সমর্থকরা। দিয়েছেন জয় শ্রীরাম ধ্বনি।
তৃণমূলের হয়ে এবার ভোটে লড়েছিলেন অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী, নূসরত জাহান, শতাব্দী রায়, অভিনেতা দেব। প্রত্যেকেই জয়ের পথে। তবে হেরে যেতে চলেছেন সুচিত্রা সেন কন্যা মুনমুন সেন। বিজেপির হয়ে জিততে চলেছেন গায়ক বাবুল সুপ্রিয়, লকেট চ্যাটার্জি।
এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত খবরে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৪৩ শতাংশের কিছু বেশি ভোট। উল্টো দিকে বিজেপি পেয়েছে ৪০ শতাংশের বেশি। ২০১৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তারা পেয়েছিল মাত্র ১৭ শতাংশ ভোট। তারা বেশি পেয়েছে ২৩ শতাংশ ভোট।
২০১৪ সালে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস ৩৪, জাতীয় কংগ্রেস ৪, বিজেপি ২ এবং সিপিএম ২টি আসন পেয়েছিল। এবার তৃণমূল ২৩, বিজেপি ১৮, জাতীয় কংগ্রেস ১টি।
কেন তৃণমূলের ফল খারাপ হলো রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তৃণমূলের প্রতি ঘৃণা প্রতিফলিত হয়েছে বিজেপির ভোট ব্যাংকে। এই ফল যতটা না বিজেপি এবং নরেন্দ্র মোদির পক্ষে তার চেয়ে অনেক বেশি মমতা ব্যানার্জি এবং তৃণমূলের বিপক্ষে। তারা বলছেন, রাজনৈতিক ভাবে ঘৃণা কাজ করেছে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। গত বছর পঞ্চায়েত নির্বাচনে (বাংলাদেশের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মতো) পশ্চিমবঙ্গে ৩৭ শতাংশ আসনে বিরোধীরা কোনো প্রার্থী দিতে পারে নি। বাকি আসনগুলোয় প্রার্থী দিতে পারলেও ভোট অবাধ হতে পারে নি বলে অভিযোগ। স্বাভাবিক ভাবেই পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মনে ক্ষোভ দানা বেঁধেছিল। একই সঙ্গে সিপিএম তথা বামেদের প্রবল চাপের মধ্যে রাখা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। স্বজনপোষণেরও অভিযোগ উঠেছে।
সিপিএম নেতাদের মন্তব্য, বামেদের ৩০ শতাংশ ভোট নেমে এসেছে সাড়ে ৭ শতাংশে। এই ভোটের মধ্যে কিছুটা তৃণমূলে এবং বাকিটা বিজেপিতে গেছে। পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের মেরুকরণ ঘটেছে। ভোটাররা মনে করেছেন তৃণমূলকে হঠাতে পারবে বিজেপি। তাই তারা বিজেপিকে ভোট দিয়েছে। সিপিএম তৃণমূলকে হারাতে পারে এটা তারা বিশ্বাস করতে পারেন নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০১১ সালে বামেদের হঠাতে পশ্চিমবঙ্গবাসী একযোগে তৃণমূলকে ভোট দিয়েছিল। এবারও সেরকমই হয়েছে। তৃণমূল বিরোধী ভোট দিয়েছে বিজেপিকে।
পশ্চিমবঙ্গে ৮টি বিধানসভা আসনেরও এদিন ফল ঘোষণা ছিল। এগুলির মধ্যে বিজেপি ৪টি, তৃণমূল কংগ্রেস ৩ এবং জাতীয় কংগ্রেস একটিতে এগিয়ে আছে। এখানে বিজেপি ৪০ এবং তৃণমূল ৩৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে।