উড়ে গেল মায়াবতী-অখিলেশ জোট, নেই প্রিয়াংকা ম্যাজিক

ভারতের রাজনীতিতে একটা কথা আছে-উত্তরপ্রদেশ যার, দেশ তার। সেই লক্ষ্যে কেন্দ্র থেকে বিজেপি তথা নরেন্দ্র মোদিকে হটাতে সব বিরোধীরা সরব হয়েছিলেন। একে অপরের শত্রু হিসেবে পরিচিত মায়বতী জোট গড়ে তুলেছিলেন অখিলেশ যাদবের সঙ্গে। তাদের প্রতিজ্ঞা ছিল, কেবল মোদিকে হারাতেই তারা শত্রু ভাবাপন্ন হয়েও জোট গড়েছেন। কংগ্রেসের আশা ছিল, এই রাজ্যে ম্যাজিক দেখাবেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। কিন্তু সেই চেষ্টাও ব্যর্থতায় পর্যবেসিত হয়েছে। আমেথিতে হেরেছেন কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধী। তবে রায়বেরেলির আসনটি রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছেন তার মা সোনিয়া গান্ধী।

ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক প্রধানমন্ত্রী উপহার দিয়েছে উত্তরপ্রদেশ। নেহেরু থেকে চন্দ্রশেখর, ইন্দিরা গান্ধী এখান থেকেই প্রধানমন্ত্রী। উত্তরপ্রদেশের দায়িত্ব নিয়ে গেরুয়া ঝড় তুলেছিলেন অমিত শাহ। তাতেই সহজ হয়ে ডায় মোদির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লড়াইটা। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তারা ৮০টি আসনের ৭৩টিতে জয় পেয়েছিলেন। ২০১৯ সালেও তাই বিশেষ নজর ছিল উত্তরপ্রদেশের দিকেই। শাসক এনডিএ হোক বা কংগ্রেস বা মায়া-মুলায়ম, উত্তরপ্রদেশের দখল নিতে তত্পরতা দেখিয়েছিল সব পক্ষই। কেন্দ্রে ও রাজ্যে ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও রামমন্দির তৈরি করতে না পারা, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, গোরক্ষকদের তান্ডব, লাভ জিহাদ, কোনো ইস্যুই হাতছাড়া করতে চায়নি বিরোধীরা। অন্যদিকে নজর ছিল জাতপাতের সমীকরণ দিয়ে ভোটের বাক্সের হিসাব উল্টে দেওয়া। সেই লক্ষ্যেই কাজটা করেছিলেন অখিলেশ যাদব। রাজ্যের দুই সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতী আর মুলায়মের চির শত্রুতার প্রাচীর ভেঙে সমাজবাদী পার্টি আর বহুজন সমাজ পার্টিকে এক জায়গায় এনেছিলেন তিনি। নিজের বাবা মুলায়মকে কৌশলে সরিয়ে দলের মধ্যে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি হাত মিলিয়েছিলেন মায়াবতীর সঙ্গে। তৈরি হয়েছিল পিসি-ভাইপো মহাজোট যাকে বলা হচ্ছিলঅ ‘বুয়া-বাবুয়া’ গটবন্ধন। সামিল হয়েছিল অজিত সিংহের রাষ্ট্রীয় লোক দলও। মহাজোটের লক্ষ্যই ছিল যাদব-দলিত-মুসলিম-জাঠ ভোটব্যাংককে এককাট্টা করা।

নেই প্রিয়াঙ্কা ম্যাজিক

থেমে ছিল না কংগ্রেসও। মহাজোটে না নেওয়ায় ‘একলা চলো নীতি’তেই রাস্তায় নেমেছিল তারা। চমক দিয়েছিল প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে সরাসরি রাজনীতির ময়দানে নামিয়ে। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক করার পাশাপাশি তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল পূর্ব উত্তরপ্রদেশের যাকে গেরুয়া দুর্গ বলে মনে করা হয়। পূর্ব উত্তরপ্রদেশের মধ্যেই আছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের গোরক্ষপুর বা খোদ প্রধানমন্ত্রী মোদির বারাণসী। পরিস্থিতি যে খুব সহজ ছিল, তা নয়। এরকম একটা জায়গা থেকেই আগাগোড়া হিন্দুত্বের লাইনে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল গেরুয়া ব্রিগেড। সারা দেশে যখন গোরক্ষকদের বাড়াবাড়ি নিয়ে সমাজের একটা অংশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে, তখন তাদের পাশেই দাঁড়িয়েছিল বিজেপি। পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার পরও অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতে রামমন্দির তৈরির দাবিতে অটল ছিল তারা। তাদের নির্বাচনী ইশতেহারেও এই অঙ্গীকার জায়গা করে নিয়েছে। এই হিন্দুত্বের লাইনই ফের দুই হাত তুলে আশীর্বাদ করল বিজেপিকে। সেভাবে কাজ করল না জাতপাতের সমীকরণ। অংকের হিসেবে মহাজোট এগিয়ে থাকলেও তা প্রভাব ফেলল না ভোটবাক্সে।  -তথ্যসূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া ও আনন্দবাজার পত্রিকা