তবে বিদেশে গিয়ে রোগী মরে কেন?
প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০১৪, ২১:১৩
আমাদের এই বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের ছড়াছড়ি। অথচ ঢাকা থেকে কলকাতায় বাসে, ট্রেনে, বিমানে যাওয়ার সময় দেখা মেলে বাংলাদেশি রোগী আর রোগী। কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় গিজগিজ করে বাংলাদেশি রোগী। এদের কারো কারো মুখে শুনি সুচিকিত্সা পাওয়ার জন্য এসেছি। কিন্তু এটা তো কাম্য হতে পারে না। আমাদের দেশে চিকিত্সার মান এখন তো অনেক এগিয়েছে—এ কথা ভারতীয় চিকিত্সকরাও আজকাল স্বীকার করেন। দেশে উত্পাদিত ওষুধের গুণাগুণও আগের তুলনায় অত্যন্ত মানসম্পন্ন। আরেকটা কথা না বললেই যে নয়, কতিপয় রোগী এবং তাদের আত্মীয়স্বজনরা ভারতীয় চিকিত্সকদের কাছে দেশের চিকিত্সা ও চিকিত্সকদের সম্পর্কে বদনাম করেন। যা কিনা শুনেছি ওখানকার কয়েকজন চিকিত্সকের মুখেই। তারা এও জানিয়েছেন, আপনাদের বাংলাদেশের কিছু রোগী দেশের চিকিত্সা ব্যবস্থা সম্পর্কে বাজে মন্তব্যও করেন। ওদের মধ্যে কি দেশপ্রেম নেই!
ভারতে চিকিত্সা করতে গিয়ে বাংলাদেশি রোগীরা ভালো চিকিত্সা পেয়েছে কি পায়নি—এ হিসাব-নিকাশ মেলাতে গিয়ে দেখি, যার যতদিন আয়ু আছে সে তো ততদিনই বাঁচে। জন্মিলে মরিতে হইবে,— এ কথা কজনই বা ভাবেন? যদি একটিবারের জন্য অন্তত এ কথাটি ভাবতেন, তাহলে কি আর পরদেশে যেতেন চিকিত্সার জন্য? যারা ভারতে কিংবা অন্য কোনো দেশে যান চিকিত্সার জন্য তাদেরকে বলবো, দেশে ভালো চিকিত্সকের অভাব নেই। চোখ দিয়ে তাকিয়ে দেখুন—খোঁজ পাবেন মেধাসম্পন্ন অভিজ্ঞ চিকিত্সকের। তাদের শরণাপন্ন হন, দেখবেন আয়ু থাকলে সুস্থ জীবন ফিরে পেয়েছেন। দেশের বদনাম করে বিদেশে চিকিত্সা করাতে গিয়ে অবশেষে লাশ হয়ে ফিরেছেন—এ রকম উদাহরণের তো অভাব নেই। বলুন, তাহলে বিদেশে চিকিত্সা করাতে গিয়ে বাংলাদেশি রোগীরা মরে কেন?
লিয়াকত হোসেন খোকন, রূপনগর, ঢাকা