রাজাপুরের শীতলপাটি এখন বিদেশেও যাচ্ছে
মনিরুজ্জামান খান, রাজাপুর (ঝালকাঠি) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০১৪, ২১:৪৯
ঝালকাঠির রাজাপুরের হাইলাকাঠি ও সাংগর গ্রাম দক্ষিণাঞ্চলের পাটি গ্রাম হিসেবে পরিচিত। গরমের ক্লান্তি কাটাতে শীতল পাটিতে ঘুমানোর জুড়ি নেই। তাই গ্রাম দুটির অধিকাংশ ঘরেই চলছে এখন পাটি তৈরির কাজ। গরমে ক্লান্তির ছোয়া লাগলেও পাটি তৈরির এ মৌসুমে পাটিকরদের কাজে নেই ক্লান্তির ছাপ। গ্রাম দুটির আবাল বৃদ্ধ বনিতা সবাই এখন পাটি তৈরির কাজে ব্যস্ত। দিন রাত নাওয়া খাওয়া বাদ দিয়ে রং বেরংয়ের পাটি তৈরি হচ্ছে এখানে।
ঝালকাঠির শীতল পাটির কদর ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার ছাড়িয়ে এখন বিদেশেও। কিন্তু সরকারি পৃষ্টপোষকতা না থাকায় পাটিকররা অর্থনৈতিক সমস্যায় জর্জরিত। চাহিদার তুলনায় তারা পর্যাপ্ত পাটি সরবরাহ করতে পারছেন না। তারপরও এ পেশা ছাড়তে রাজি নয় গ্রামদুটির পাটিকররা। রাজাপুর উপজেলার হাইলাকাঠি ও সাংগর গ্রামে ১২ মাসই পাটি তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন এরা। এ গ্রামের হিন্দু সমপ্রদায়ের প্রায় দেড়শ পরিবারের চার শতাধিক লোক এই পেশার সাথে জড়িত। পাইতরা (পার্টি তৈরি গাছ) বন থেকে কেটে শুকানো এবং বেতি তৈরি ও বাজারে বিক্রি করে পুরুষরাই। বেতি দিয়ে বাড়িতে পাটি তৈরির আসল কাজটি করেন নারী ও শিশুরাই। তবে মাঝে মধ্যে পুরুষরাও নারীদের সাথে এ কাজে হাত লাগায়। যুগ যুগ ধরে বংশ পরম্পরায় এরা পাটি তৈরি করে আসছেন। গ্রাম দুটির প্রবেশ পথে মাইলের পর মাইল পাইতরা বন চোখে পড়ে গ্রাম ২টির প্রায় একশ একর জমিতে পাইতরা চাষ হয়। দক্ষিণাঞ্চল ছাড়াও এ পাটি এখন দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে চলে যাচ্ছে বিদেশে। শীতল পাটির কদর ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছে। কিন্তু পাটিকরদের পুনর্বাসন এবং পাটি বিক্রির মৌসুমে বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা নেই। এ শিল্পটি দক্ষিণাঞ্চলের অর্থকরি ফসল পেয়ারা, সুপারি এবং আমড়ার মত অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে। গ্রাম দুটিতে মৌসুম ছাড়াও বছরে প্রায় ১৫ হাজার পাটি তৈরি হয়। এগুলো বিক্রি করে দাম পাওয়া যায় অর্ধ কোটি টাকা।
স্থানীয় শীতল পাটি উন্নয়ন প্রকল্প সমিতির সভাপতি বলাই চন্দ্র পাটিকর বলেন, পাইকাররা এসে আমাদের পাটি নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থান ও বিদেশে পাঠাচ্ছে। কিন্তু আমরা এর মূল্য পাচ্ছি অত্যন্ত কম। সরকার যদি এটাকে রপ্তানিকারক পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিত তাহলে আমরাও এর সঠিক মূল্য পেতাম। আর এর সাথে সাথে দেশেরও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হতো।