তেজগাঁওয়ে কেমিক্যালের ড্রামে বিস্ফোরণ
প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:০৩
রাজধানীর তেজগাঁওয়ের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীর দ্রব্য সামগ্রী সরবরাহকারী একটি প্রতিষ্ঠানে কেমিক্যালের ড্রাম বিস্ফোরণে মালিকসহ ১১ জন অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। এদের মধ্যে দুইজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ২টায় ফার্মগেট সংলগ্ন পূর্ব তেজতুরী বাজারের তেজগাঁও মহিলা কলেজ গলির আলাউদ্দীন গার্মেন্টসের নিচতলায় মাহফুজ সুইং অ্যান্ড সার্ভিস নামের প্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। অগ্নিদগ্ধরা হলেন- দোকানের মালিক মাহমুদুল হাসান, প্রাইভেটকার চালক মাসুদ, দোকান কর্মচারী শফিউল আজম, মোতালেব হোসেন, ইব্রাহীম খলিল, জহিরুল ইসলাম, আবদুল লতিফ, জাকির হোসেন, পথচারী হোটেল কর্মচারী উজ্জ্বল, নর্দান ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্রী রিফাত আরা ইয়াসমিন এবং ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির বিবিএ-এর শিক্ষার্থী শাম্মী আক্তার ঝিলিক। তাদেরকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, এদের মধ্যে আবদুল লতিফের শরীরের ৯৬ ভাগ, শফিউলের ৯৫, ইব্রাহীমের ৯১, মোতালেবের ৭৫, জহিরুলের ৩৪, মাহমুদুল হাসানের ৩৫ ভাগ পুড়ে গেছে। বাকিদের শরীর ১০ থেকে ২৫ ভাগ পুড়েছে।
ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন জানান, খবর পেয়ে তাদের ২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আধঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তারা যাওয়ার আগেই আশপাশের লোকজন আগুনে দগ্ধদের হাসপাতালে নিয়ে যায়। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগে। দোকানটিতে কেমিক্যাল থাকায় আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই তা ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮ লাখ টাকা।
অগ্নিদগ্ধ দোকান মালিক মাহমুদুল হাসান বলেন, তার দোকানের মালামাল বিভিন্ন গার্মেন্টসে পাইকারিভাবে সরবর?াহ করা হয়। অর্ডার অনুযায়ী ২০০ লিটারের একটি ফিনারের ড্রাম এনে দোকানে রাখা হয়। দোকানে শর্ট সার্কিট হলে মুহূর্তের মধ্যে ফিনারের ড্রামে বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর আগুন দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের সময় দোকানের সামনে ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাওয়া পথচারীরাও অগ্নিদগ্ধ হয়। এদের মধ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী হেঁটে ফার্মগেট নিবেদিকা হোস্টেলে যাচ্ছিলেন। তাদের দুই পা অগ্নিদগ্ধ হয়।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, অগ্নিদগ্ধদের মধ্যে ৭ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে তাদের সর্বোচ্চ চিকিত্সা দেয়া হচ্ছে।