হিরনের দাফন আজ, বরিশালে শোকের ছায়া

গতকাল বৃহস্পতিবার সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি, সংসদ সদস্য শওকত হোসেন হিরনের মরদেহ বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ হেলিকপ্টারে ঢাকা থেকে বরিশালে নিয়ে আসা হয়েছে। আজ শুক্রবার বেলা ১১ টায় সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ সদর রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে আসা হবে। বেলা আড়াইটায় স্থানীয় বঙ্গবন্ধু উদ্যানে জানাজা শেষে মুসলিম গোরস্থানে মা জয়নব বেগমের কবরের পাশে সমাহিত করা হবে বরিশালবাসীর প্রাণপ্রিয় এ নেতাকে। হিরনের অকাল প্রয়াণে বরিশাল নগর জুড়ে এখন বিরাজ করছে শোকাবহ পরিবেশ। সাত দিনব্যাপী শোক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। দলীয় কার্যালয় থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লায় চলছে কোরআন তেলাওয়াত, বিশেষ দোয়া-মোনাজাত। এদিকে নগরীতে বাংলা নববর্ষের সকল আয়োজন বাতিল করা হয়েছে। গত বুধবার সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর জরুরি সভায় মঙ্গল শোভাযাত্রা, বৈশাখী মেলাসহ বর্ষবরণের সকল অনুষ্ঠান বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। গতকাল বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে হিরনের লাশবাহী হেলিকপ্টার বঙ্গবন্ধু উদ্যোনে পৌঁছে। সেখানে আগেই হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেন। মরদেহটি নামানোর সঙ্গে সঙ্গে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন অনেকেই। কফিনের সাথে ছিলেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম এমপি, অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালক বলরাম পোদ্দার, প্রয়াত নেতার স্ত্রী জেবুন্নেছা আফরোজ, ছেলে সাজিদ হোসেন রাফসান ও মেয়ে হুসেইন ফাতেমা-ই-রশনী। লাশ হেলিকপ্টার থেকে নামিয়ে বিশেষ এম্বুলেন্সে হিরনের আলেকান্দার বাসভবন ‘হিরন পয়েন্টে’র দিকে রওয়ানা হলে শোকের মিছিলে সামিল হন হাজার হাজার মানুষ। মাত্র ৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সময় লেগে যায় এক ঘন্টার বেশি। বাসভবনের সামনেই হিমায়িত এম্বুলেন্সের ভিতরে রাখা হয়েছে হিরনের মরদেহ। গত ২২ মার্চ মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে টানা ১৮ দিন সিঙ্গাপুর ও ঢাকার হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে বুধবার সকালে মারা যান এই আওয়ামী লীগ নেতা।