বিদ্যুত্ বৈষম্যের শিকার চট্টগ্রাম!
মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:০৬
দেশে বিদ্যুত্ উত্পাদন বাড়লেও সুফল পাচ্ছে না চট্টগ্রামবাসী। চট্টগ্রামের বিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলো থেকেও দৈনিক সাড়ে ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন হচ্ছে। তারপরেও বৈষ্যমের শিকার হচ্ছে বন্দরনগরী। প্রতিদিন ১৫০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হচ্ছে। দেশের রাজস্ব আদায়ের প্রধান এই বাণিজ্য ও শিল্প অঞ্চলে বিদ্যুত্ সংকটের কারণে জাতীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা জানান। অথচ চট্টগ্রাম থেকে প্রতিমাসে বিদ্যুত্ খাতে প্রায় ১৮০ কোটি টাকা বিল বাবদ আদায় হচ্ছে।
পিডিবি সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশের বিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলো থেকে দৈনিক উত্পাদন হচ্ছে ৬ হাজার ৬৯০ মেগাওয়াট। পিডিবি’র কেন্দ্রীয় লোড ডেসপাস সেন্টারের নীতিমালা অনুসারে দেশে দৈনিক মোট বিদ্যুত্ উত্পাদনের ১২ দশমিক ১ শতাংশ দৈনিক চট্টগ্রামে বরাদ্দ প্রদানের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু এই নিয়মটি মানা হচ্ছে না। সেই হিসাবে চট্টগ্রামে দৈনিক ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ বরাদ্দ পাওয়ার কথা। কিন্তু চট্টগ্রামে দৈনিক বিদ্যুতের বরাদ্দ মিলছে সর্বোচ্চ ৫৫০ মেগাওয়াট। তা আবার সন্ধ্যার পর। দিনের বেলায় আরো কম বিদ্যুত্ পাওয়া যাচ্ছে।
পিডিবি জানায়, চট্টগ্রামে বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা ৭০০ মেগাওয়াট। পিডিবি’র এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে গত ৮ মার্চ ১৩৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। এ প্রসঙ্গে পিডিবি চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, ‘লাইনে ও ট্রান্সফরমারের ত্রুটির কারণে অনেক সময় লাইন বন্ধ রাখতে হয়। কিন্তু এছাড়া কোন লোডশেডিং করা হয়নি।’
চট্টগ্রামে বিদ্যুত্ পরিস্থিতি সম্পর্কে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প গ্রুপ মোস্তফা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মো. হেফাজেতুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুত্ উত্পাদন বেড়েছে বললেও তার কোন সুফল আমরা পাচ্ছি না। লোডশেডিং আগের মতো রয়ে গেছে। পিডিবি কর্মকর্তারা বলছে ঢাকা-চট্টগ্রাম যে ন্যাশনাল গ্রীড লাইন রয়েছে তার ক্যাপাসিটি কম। সরবরাহ বাড়ানো যাচ্ছে না। আমরা নিজস্ব পাওয়ার জেনারেশন দিয়ে কারখানা চালু রেখেছি। বিদ্যুত্ ও গ্যাস সংকটে গত ১০ বছরে চট্টগ্রামে নতুন কোন শিল্প-কারখানা গড়ে উঠেনি।’
বিজিএমইএ’র সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি নাছির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘বিদ্যুত্ উত্পাদন বাড়লেও এখনো লোডশেডিংয়ের কারণে উত্পাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। লোডশেডিং যা কমেছে তা পর্যাপ্ত নয়।’
জিপিএইচ গ্রুপের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমাস শিমুল বলেন, ‘আমরা নিজস্ব পাওয়ার জেনারেশন দিয়ে উত্পাদন স্বাভাবিক রেখেছি। তবে শিল্প কারখানায় বিদ্যুত্ ব্যবহারের ক্ষেত্রে যে বিধি নিষেধ ছিল তা এখন নেই।’
চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহাবুবুল আলম ইত্তেফাককে বলেন, ‘চট্টগ্রামের প্রতি সরকারের সদিচ্ছা থাকলেও আমলাতান্ত্রিক বৈষ্যমের কারণে চট্টগ্রামের মানুষ বিদ্যুতের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিদ্যুত্, গ্যাসসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে চট্টগ্রামবাসী বৈষ্যমের শিকার হচ্ছে।’