আত্মসমর্পণ করলে বিদ্রোহী রুশপন্থিদের ক্ষমা করা হবে

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের দুটি শহরের রুশপন্থী বিদ্রোহীরা আত্মসমর্পন করলে ক্ষমা করে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে সেদেশের সরকার। গতকাল দেশটির পার্লামেন্টে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার তুর্কিনোভ এ ঘোষণা দেন। এদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন, ইউক্রেন যদি সঠিক সময়ে গ্যাসের মূল্য পরিশোধ না করে তাহলে ইউরোপীয় দেশগুলোতে গ্যাসের সংকট দেখা দিতে পারে। খবর বিবিসি’র। প্রেসিডেন্ট বলেন, বিদ্রোহীরা যদি ডনেটস্ক এবং লুহানস্ক শহরের সরকারি ভবন স্বেচ্ছায় ছেড়ে দেয় এবং তাদের অস্ত্র সরকারের কাছে সমর্পন করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ আনা হবে না। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, রাশিয়া হয়তো ইউক্রেনে হামলার জন্য এসব করাচ্ছে। যদিও রাশিয়া এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ন্যাটো জানিয়েছে, ইউক্রেনের সীমান্ত এলাকাগুলোতে প্রায় ৪০ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে রাশিয়া। এর জবাবে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো এর সদস্য দেশগুলোর কাছে আবেদন বাড়তে ইউক্রেন সঙ্কটকে কাজে লাগাচ্ছে এবং কল্পিত বহিঃশত্রুর বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি শাণিত করার যৌক্তিকতা নিরূপণের চেষ্টা করছে। এর আগে সমস্যা সমাধানের জন্য রুশসমর্থকদের দুই দিনের আল্টিমেটাম দেয় ইউক্রেন সরকার। না হলে তাদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করা হবে বলে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বুধবার হুঁশিয়ার করে দেন। তবে গতকাল প্রেসিডেন্ট বলেছেন, বিদ্রোহীরা আত্মসমর্পণ করলে তিনি তার ‘ক্ষমতাবলে’ ক্ষমা করে দেবেন। গতকাল মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি জানিয়েছেন, রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে তার টেলিফোনে আলাপ হয়েছে। লাভরভ ইউক্রেন ইস্যুতে আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছেন। অন্যদিকে ইউক্রেন প্রশ্নে চতুর্মুখী বৈঠক থেকে বেশি কিছু আশা করছে না যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র বুধবার জানিয়েছে, ইউক্রেন প্রশ্নে আগামী ১৭ এপ্রিল রাশিয়া, ইউরোপ ও ইউক্রেনের সঙ্গে চতুর্মুখী বৈঠক থেকে তারা খুব বেশি কিছু অর্জন করতে পারবে বলে আশা করছে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কূটনীতিকরা ইউরোপে চলমান নিরাপত্তা সংকট নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার লক্ষ্যে সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে ইউক্রেনের অংশ গ্রহণে রাশিয়ার সঙ্গে বৈঠকে সম্মত হয়েছে।