একই পরিবারের তিন জনকে কুপিয়ে হত্যা
কালীগঞ্জ (গাজীপুর) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:১৮
গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে একই পরিবারের তিনজনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার মোক্তারপুর ইউনিয়নের ধনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—গ্রামের মমতাজ উদ্দিন (৯০), তার দুই পুত্র সাইজুল ইসলাম (৩৮) ও সাইফুল ইসলাম (৩৫)। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরো ৩ জন। পুলিশ হামলায় জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেফতার করেছে।
নিহতদের পারিবারিক সূত্র জানায়, বেলা ১১টার দিকে নিজেদের ১৬ কাঠা জমিতে বেড়া দিতে গেলে পাশের রাথুরা গ্রামের কয়েকজন তাদের বাধা দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে ওই গ্রামের আলাউদ্দিন, তার পুত্র আনোয়ার, বেলায়েত ও মিনারসহ অজ্ঞাত ১০/১২ জন জমিটির মালিক ধনপুর গ্রামের মমতাজ উদ্দিন ও তার ৩ পুত্র সাইজুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম (৫৫), পুত্রবধূ কোহিনূর বেগম (৩৫) ও প্রতিবেশী সোলেমাকে (৩৫) ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। পরে আহতদের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক মমতাজ উদ্দিন ও তার পুত্র সাইজুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত ৪ জনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। এদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান। আহত কোহিনূর বেগমের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, মৃত সাইজুল ইসলাম জামালপুরে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। তার ৮ বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। আর সাইফুল ইসলাম এলাকায় কাঁচামালের ব্যবসা করতেন। তার ৭ বছরের কন্যা ও ৩ বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় আলাউদ্দিন নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওই ১৬ কাঠা জমির পৈত্রিক সূত্রে মালিক নিহত মমতাজ উদ্দিন। কিন্তু যারা হামলা করেছে তাদের দাবি এ জমি হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের কাছ থেকে তারা কিনেছেন। এ জমি নিয়ে ইতিপূর্বে গ্রাম্য সালিশিতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নিহত মমতাজের পক্ষে রায় প্রদান করেন।
এ ব্যাপারে মোক্তারপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. শরীফুল ইসলাম তোরণের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি জানান, বর্তমানে তিনি অসুস্থ অবস্থায় ঢাকার বারডেম হাসপাতালে চিকিত্সাধীন। ৭/৮ বছর আগে ওই জমি নিয়ে তিনি সালিশ করেছিলেন বলে স্বীকার করেন।
এদিকে এই নির্মম ট্রিপল হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুল আহসান তালুকদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বর্তমানে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় সন্ধ্যা পর্যন্ত থানায় মামলা না হলেও ঘাতকদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছে পুলিশ।