আটকে গেল রমনায় বোমা হামলা মামলার রায়

বহুল আলোচিত রমনা বটমূলে জঙ্গিদের বোমা হামলা মামলায় উভয়পক্ষের সাক্ষ্য জেরা শেষ হয়েছে। আশা ছিল আগামী ১৩ এপ্রিল রায় ঘোষণা হবে। নিহতদের স্বজনদের ১৩ বছরের প্রতীক্ষার অবসান হবে। বন্ধ হবে তাদের হূদয়ের রক্তক্ষরণ। কিন্তু শেষ মুর্হূতে এসে তা সামান্য জটিলতার কারণে আটকে গেছে। তবে সব জটিলতার অবসান শেষে বিচারক এ বৈশাখেই মামলার রায় ঘোষণা করতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মামলার রাষ্র্বপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি এ.এম জাহিদ হোসেন (জাহিদ সরদার)। গতকাল বৃহস্পতিবার আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার পুনরায় সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। যথারীতি উপস্থিতও ছিলেন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি ইন্সপেক্টর আবু হেনা মো. ইউসুফ। কিন্তু আসামি পক্ষের সময়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে আগামী ২২ এপ্রিল শুনানির দিন ধার্য করেন ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত দায়রা জজ রুহুল আমিন। গতকাল শুনানির শুরুতেই আসামিপক্ষ থেকে শুনানি মুলতবির আবেদন জানিয়ে বলা হয়, তদন্ত কর্মকর্তার পুনরায় সাক্ষ্য গ্রহণের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে। এ পর্যায়ে আদালত হাইকোর্টের আদেশের কপি দাখিলের নির্দেশ দিয়ে পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন। কোর্ট রিপোর্টার জানান, গত বছরের ২৪ মার্চ তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে জবানবন্দিকালে মামলার সূচিপত্র ও খসড়া মানচিত্রের বিষয়ে জবানবন্দি দিলেও তা মামলার নথিতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। সমপ্রতি আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে এটি ধরা পড়ে। ফলে রাষ্ট্রপক্ষ মামলার রায় বিপক্ষে যাওয়ার আশঙ্কায় পুনরায় তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দি নেয়ার জন্য আদালতে আবেদন করে। কিন্তু আসামিপক্ষ এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। ২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল (১৪০৮ সালের ১ বৈশাখ) রমনায় ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান চলাকালে বোমা হামলায় ঘটনাস্থলেই মারা যান ৯ জন। পরে হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। ওই দিনই বাবুপুরা পুলিশ ফাঁড়ির সার্জেন্ট অমল চন্দ্র বাদি হয়ে রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটির তদন্ত ন্যস্ত হয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা দফতরে (ডিবি)। মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন ডিবির তত্কালীন সহকারী কমিশনার আখতারুজ্জামান রুনু। তিনি বেশ কয়েকমাস তদন্ত করেন। তিনি ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত বেশ কয়েকজন আসামিকে গ্রেফতারও করেছিলেন। পরবর্তীতে চারদলীয় জোট সরকার গঠনের পর মামলাটি তদন্তের জন্য সিআইডিতে পাঠানো হয়। থেমে যায় মামলার তদন্ত কার্যক্রম। নিহতদের স্বজনরাও বিচারের আশা ছেড়ে দেন। গ্রেফতারকৃত আসামিরা অনেকেই জামিনে মুক্তি পান। প্রায় ৭ বছর মামলার তদন্ত কার্যক্রম প্রায় বন্ধ থাকে। ২০০৭ সালে আবার মামলার কার্যক্রম শুরু হয়। মামলার সপ্তম ও সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি ইন্সপেক্টর আবু হেনা মো. ইউসুফ। তিনি ২০০৮ সালের ২৯ নভেম্বর হুজি নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। আর ২০০৯ সালের ১৬ এপ্রিল ১৪ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত। আসামিদের মধ্যে হান্নানসহ ৯ জন কারাগারে রয়েছেন। পলাতক রয়েছেন বাকিরা। নিহত যারা: নিহত ১০ দশ জনের মধ্যে একজনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। বাকিরা হলেন আল-মামুন হোসেন, রিয়াজুল ইসলাম, জান্নাতুল ফেরদৌস শিল্পী, আবুল কালাম আজাদ, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, মোহাম্মদ এমরান হোসেন, অসীম চন্দ্র সরকার, ইসমাইল হোসেন স্বপন ও আনসার আলী।