আগামী বাজেটে চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা
প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০১৪, ১৯:২৯
আগামী বাজেটটি হবে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার পঞ্চম তথা শেষ বছরের বাজেট এবং সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার (২০১৬-২০) এর ভিত্তি বছর। তাই আসন্ন বাজেটের গুরুত্ব অনেক বেশি
সারণী-১: বিভিন্ন পঞ্চবার্ষিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য ও প্রকৃত অর্জন
পরিকল্পনা কাল (অর্থবছর) প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন
১ম পঞ্চবার্ষিক (১৯৭৩-৭৮) ৫.৫ ৪.০
দ্বিবার্ষিক (১৯৭৮-৮০) ৫.৬ ৩.৫
২য় পঞ্চবার্ষিক (১৯৮০-৮৫) ৫.৪ ৩.৮
৩য় পঞ্চবার্ষিক (১৯৮৫-৯০) ৫.৪ ৩.৮
৪র্থ পঞ্চবার্ষিক (১৯৯০-৯৫) ৫ ৪.২
৫ম পঞ্চবার্ষিক (১৯৯৭-২০০২) ৭.০ ৫.১
৭ম পঞ্চবার্ষিক (২০১১-১৫) ৭.৩ ৬.২
বছর ঘুরে আবার জাতীয় বাজেট আসছে। এ বাজেটে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব আয়, বৈদেশিক সহায়তা ও ঋণ প্রাপ্তি, বর্তমান ও ভবিষ্যত্ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বর্ণনা ও ব্যয় এবং সরকার পরিচালনায় খরচ ইত্যাদি বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরা হবে। বাংলাদেশে অর্থবছর জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত। সরকারের পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রী জুন মাসের প্রথম ভাগে জাতীয় সংসদে এই বাজেট পেশ করবেন। এই বাজেট তৈরি নিয়ে এখন অর্থ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় কর্মব্যস্ত সময় পার করছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও জনপ্রতিনিধি শত শত উন্নয়ন প্রকল্প-প্রস্তাব পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জমা দিচ্ছে। উন্নয়নমূলক এসব প্রকল্প প্রণয়নে তৃণমূল থেকে মন্ত্রণালয় পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সকলের সৃষ্টিশীল চিন্তা-চেতনা ঠাঁই পেয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এসব প্রস্তাব নৈর্ব্যক্তিকভাবে যাচাই-বাছাই করে রাষ্ট্রের মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রকল্পগুলোতে অর্থ বরাদ্দের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় রাজস্ব আয়ের সাথে খাপ খাইয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণ করবে। অনেক সময়ই এ নিয়ে দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। একপক্ষ পঞ্চবার্ষিক এবং প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আপসহীন থাকে। অপরপক্ষ পর্যাপ্ত অর্থ যোগান দিতে সীমাবদ্ধতা এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে ভারসাম্য রক্ষাকে গুরুত্ব দেয়। এই দুই বিপরীতমুখী অবস্থান স্বল্পোন্নত, উন্নয়নশীল ও উন্নত সব দেশের বেলায়ই ঘটে। তবে দরিদ্র দেশগুলোর ক্ষেত্রে চাওয়া ও পাওয়ার মধ্যে ফারাকটা বেশি থাকে। তাই পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মেয়াদশেষে অনেক লক্ষ্যই অপূর্ণ থাকে। সাথে রাজনৈতিক টানাপোড়েন তো আছেই।
সারণী-১ থেকে দেখা যায়, কোনো পঞ্চবার্ষিকেই সামষ্টিক অর্থনীতির প্রধান সূচক তথা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হারে প্রত্যাশিত লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হয়নি। অধিকাংশ সূচকে একই অবস্থা। প্রাক্কলন ও প্রকৃত অর্জনের মধ্যে এই পার্থক্য কমিয়ে আনার লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় সরকারি ও বেসরকারি স্টোকহোল্ডার, অর্থনীতিবিদ, নাগরিক সমাজ, মিডিয়া, জনপ্রতিনিধি সবার সঙ্গে ধাপে ধাপে মত বিনিময় করছে। তদবিরকারীদের দৌড়ঝাঁপও থেমে নেই। সবাই নিজ নিজ প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক তত্পরতা চালিয়ে যাচ্ছে। ব্যবসায়ী-শিল্পোদ্যোক্তারা আমদানি পণ্যে শুল্ক ও কর হার বাড়ানো-কমানো নিয়ে লবিং করছে। এসব নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা চলবে মে মাস পর্যন্ত। এভাবেই বাজেট প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হবে। গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় এটাই রীতি। এখানে দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া হয়। সংসদ সদস্যরা তাদের বক্তৃতায় নিজ এলাকার উন্নয়ন প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলো বার্েজটে অন্তর্ভুক্ত হয়। বার্ষিক জাতীয় বাজেট কোনো বিচ্ছিন্ন আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়। এটি জাতির উন্নয়নে একটি বৃহত্ পরিকল্পনারই অংশ। জনবান্ধব সরকার দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য প্রণয়ন করে।
সরকারের আগামী বাজেটটি হবে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার পঞ্চম তথা শেষ বছরের বাজেট এবং সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার (২০১৬-২০) এর ভিত্তি বছর। তাই আসন্ন বাজেটের গুরুত্ব অনেক বেশি। এটি এমনভাবে করতে হবে যাতে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার প্রধান প্রধান লক্ষ্যগুলো পূরণ করা যায়। তাহলে রূপকল্পের লক্ষ্য পূরণ সহজ হবে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার ওপর চাপ হ্রাস পাবে। কিন্তু কাজটি অত্যন্ত কঠিন হবে। সূচকগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, (১) জিডিপি প্রবৃদ্ধি হার পঞ্চবার্ষিকের প্রথম বছরের ৬ দশমিক ৭২ শতাংশ থেকে শেষ বছর তথা ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৮ শতাংশ অর্জন করতে হবে। এটি এখন কঠিন টার্গেটে পরিণত হয়েছে। কারণ ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৬ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। আর চলতি অর্থবছর ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে কিনা তা নিয়েই দেশি-বিদেশি অর্থনীতিবিদরা সন্দিহান। যদিও সরকার প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য ৭ দশমিক ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬ দশমিক ৫ শতাংশে পুনঃনির্ধারণ করেছে। এই সংশোধিত লক্ষ্য অর্জিত হলেও আগামী অর্থবছরে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করা অসম্ভব হবে। তবে শিল্প বিনিয়োগ ব্যাপক বৃদ্ধি, সেবাখাতের প্রসার বিশেষ করে প্রবাসে কর্মী প্রেরণ এবং রেমিটেন্স আসায় ব্যাপক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারলে প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ বা তার বেশি অর্জন করা সম্ভব হবে। (২) বিনিয়োগ জিডিপির ২৫ শতাংশ থেকে ৩০ দশমিক ২ শতাংশে উন্নীত করা। এ লক্ষ্য অর্জনও অনেক চ্যালেঞ্জিং। কারণ চলতি অর্থবছর সরকারি বিনিয়োগ বাড়লেও বেসরকারি বিনিয়োগে লক্ষ্য অনুযায়ী প্রবৃদ্ধি হয়নি। মোট বিনিয়োগের ৭০ শতাংশই নির্ভর করে ব্যক্তিখাতের ওপর। তাই বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিদ্যুত্ ও গ্যাসের উত্পাদন আরও দ্রুত বাড়াতে হবে। যোগাযোগ অবকাঠামোসহ সেবাখাতের ব্যাপক উন্নয়ন করতে হবে। বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করতে হবে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে। বিনিয়োগের উত্তম পরিবেশ সৃষ্টি করতে সরকারের প্রচেষ্টার পাশাপাশি রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজকেও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। সবাই দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে।
আমদানি ও রপ্তানি পরিস্থিতিতে মিশ্র অবস্থা বিরাজ করছে। (৩) রপ্তানি আয় ২৩ বিলিয়ন ডলার থেকে ৩৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা। এ লক্ষ্যটি অর্জন করা সম্ভব না হলেও ভাল অগ্রগতি হবে। চলতি অর্থবছর রপ্তানি আয় ৩১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে বলে আশা করা যায়। আগামী অর্থবছরে রপ্তানি আয়ে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলে মোট আয় প্রায় ৩৬ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে। তাও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার কম হবে। (৪) আমদানি ব্যয় ৩০ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার থেকে ৫৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা। এ লক্ষ্যটিও অর্জিত হবে না। ২০১২-১৩ অর্থবছরে আমদানি ব্যয় হয়েছে ৩৩ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার। চলতি অর্থবছর তা ৩৭ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হতে পারে। আগামী অর্থবছরে আমদানি ব্যয়ে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলেও লক্ষ্যের চেয়ে আরও ১৩ বিলিয়ন ডলার ঘাটতি থাকবে। এর প্রধান কারণ শিল্প কাঁচামাল, মধ্যবর্তী পণ্য ও মেশিনারি আমদানিতে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হচ্ছে না। অবশ্য চাল আমদানি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে যাওয়ায়ও আমদানি ব্যয়ে প্রবৃদ্ধি হ্রাস পেয়েছে। আমদানিতে প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি না হওয়ায় রাজস্ব আয়েও উচ্চ প্রবৃদ্ধি হার অর্জিত হচ্ছে না। এর ফলে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ব্যয়-প্রবৃদ্ধি আগের মতো ২০ শতাংশে ধরে রাখা যাচ্ছে না। (৫) প্রবাসী আয় ১১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার থেকে ১৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা। এ লক্ষ্যটি অর্জনের ক্ষেত্রে দেশ বেশ ভালভাবেই এগিয়ে যাচ্ছিলো। ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স এসেছে। কিন্তু চলতি অর্থবছরে রেমিটেন্স প্রাপ্তিতে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। বছর শেষে মোট প্রাপ্তি ১৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছুতে পারে। তাই আগামী অর্থবছর শেষে তা ১৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা প্রায় অসম্ভব হবে। (৬) মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনা। এটি অনেকাংশে নির্ভর করে সরকারের মুদ্রানীতির ওপর। সরকার বিগত কয়েকটি অর্ধবার্ষিকেই সংরক্ষণমূলক মুদ্রানীতি অব্যাহত রেখেছে। তাই মূল্যস্ফীতি সাড়ে সাত শতাংশে নেমে এসেছে। সার্বিক কৃষি উত্পাদন এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সঠিক প্রসার নিশ্চিত করতে পারলে মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। তবে প্রবৃদ্ধি বাড়লে জনগণের আয়-রোজগার বাড়ে। এতেও মূল্যস্ফীতি ঘটে। (৭) দারিদ্র্যের হার ২০১০ সালের ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ২২ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারিত হয়। এটি অর্জন করা সম্ভব হবে। কারণ, ২০১৩ শেষে দারিদ্র্যের হার ২৬ শতাংশে নেমে এসেছে। চলতি অর্থবছর শেষে দারিদ্র্যের হার ২৫ শতাংশে নেমে আসবে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচি ছাড়াও সরকারের দারিদ্র্য বিমোচনমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বেশ কার্যকর হওয়ায় বিগত পাঁচ বছর ধরে বছরে আড়াই শতাংশ বা তার বেশি হারে দারিদ্র্য কমেছে। সরকারের উদ্যোগগুলো আগামী অর্থবছরেও অব্যাহত থাকলে দারিদ্র্যের হার ২২ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা কঠিন হবে না।
ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার অনেকগুলো লক্ষ্য পূরণের কঠিন চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে। সরকার গত পাঁচ বছর ধরেই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সন্ত্রাস ও সহিংসতা মোকাবেলা করেছে। অর্থনীতিকে বিশ্বমন্দার নেতিবাচক প্রভাব থেকে মুক্ত রেখেছে। বিশ্বের অধিকাংশ দেশ যখন ১ থেকে ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে তখন বাংলাদেশ ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। বাংলাদেশের এই সাফল্যকে বিশ্ব বেশ ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। ফ্রান্সের বিখ্যাত আর্থিক ও বীমা প্রতিষ্ঠান “কোফাস” সম্প্রতি বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাপী প্রবৃদ্ধি সম্ভাবনার নতুন দশটি দেশের একটি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। সংস্থাটির মতে, বিশ্বের দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী উদীয়মান পাঁচটি দেশ ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা (ব্রিকস) এতদিন যে জায়গাটি ধরে রেখেছিল, সেখানে এখন উঠে যাচ্ছে বাংলাদেশসহ নতুন দশটি দেশ। অন্য দেশগুলো হচ্ছে পেরু, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, কলম্বিয়া, শ্রীলঙ্কা, কেনিয়া, তানজানিয়া, জাম্বিয়া ও ইথিওপিয়া। এর আগে বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান সাক্স প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনার বিচারে নেক্সট ইলেভেন তালিকা প্রকাশ করে। সেখানেও বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বাংলাদেশ গত পাঁচ বছরে রপ্তানিতে গড়ে ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে যখন বিশ্ব গড় রপ্তানি প্রবৃদ্ধি মাত্র পাঁচ শতাংশ। বাংলাদেশে জনগণের মাথাপিছু আয় ৪০০ ডলার বেড়েছে। যদিও অনেক দেশে মাথাপিছু আয় কমেছে। মানুষের গড় আয়ু ৬৫ থেকে ৬৯ বছরে উন্নীত হয়েছে। জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে। সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় এই দক্ষতা দেখাতে না পারলে আজকে দেশের অবস্থা কত খারাপ হতো তা ভাবাই যায় না। এজন্য গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। এখন সরকারকে সেবাখাতের প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করতে হবে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও দূতাবাসগুলোর তত্পরতা বাড়াতে হবে। জনশক্তি রপ্তানির নতুন বাজার সৃজন এবং বাজার উপযোগী জনসম্পদ তৈরিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কৃষিখাতের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হবে। পাশাপাশি ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার চ্যালেঞ্জগুলো যথাযথ মূল্যায়ন করে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজে হাত দিতে হবে। যাতে প্রেক্ষিত পরিকল্পনা এবং রূপকল্প ২০২১ এর মূল লক্ষ্যগুলো সময়মতো অর্জন করা যায়। তবেই ২০২১ সালে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করা সম্ভব হবে।