আলুর পর নতুন পিঁয়াজের দরপতন
ক্ষতিগ্রস্ত চাষি
প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০১৪, ১৯:৩০
আলুর পর এবারে বাজারে নতুন পিঁয়াজ উঠার পর দর পতন হয়েছে। বর্তমানে পিঁয়াজের মোকামগুলোতে প্রতি মণ (৪০ কেজি) আড়াইশ’ টাকা থেকে শুরু করে ৭শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বৃষ্টির পানি জমে কোন কোন জমির পিঁয়াজের ক্ষতি হলেও সার্বিকভাবে পিঁয়াজের ফলন ভাল হয়েছে।
পিঁয়াজ আমাদের দেশে একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় মশলা। এ কারণে এ পণ্যটির দাম চড়ে গেলে হৈচৈ শুরু হয়ে যায়। দেশে পিঁয়াজের চাহিদা নিয়ে ভিন্নতা থাকলেও কৃষি সম্প্র্রসারণ অধিদপ্তর থেকে বলা হয় বার্ষিক চাহিদা ২৭ লাখ টন। গত বছর (২০১৩) দেশে এক লাখ ৮১ হাজার হেক্টরে পিঁয়াজ চাষ হয়েছিল। আর উত্পাদনের পরিমাণ ছিল ১৯ লাখ ১৪ হাজার টন। ২০১২ সালে এক লাখ ৮০ হাজার হেক্টরে পিঁয়াজ চাষ হয়েছিল। উত্পাদনের পরিমাণ ছিল ১৮ লাখ ৯৯ হাজার টন। গত বছর নতুন পিঁয়াজ উঠার পর প্রতি মণের দাম ছিল ৬শ’ থেকে ৭শ’ টাকা। এরপর দাম চড়তে থাকে। এক সময় প্রতি মণের দাম উঠে ১৬শ’/১৭শ’ টাকায়। তারপর এক লাফে উঠে যায় আড়াই হাজার টাকা। এরপর আরো চড়ে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়। পিঁয়াজের দামে মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ে। এক সময় খুচরা একশ’ টাকা কেজি দরে পর্যন্ত পিঁয়াজ কিনতে হয় ভোক্তাদের।
আমাদের দেশে উত্পাদিত পিঁয়াজ ছাড়া ভারত থেকে আমদানিকৃত পিঁয়াজের মাধ্যমে ঘাটতি পূরণ করা হয়ে থাকে। হঠাত্ করে গত বছর ভারতে পিঁয়াজের উত্পাদন বর্ষার কারণে মার খাওয়ায় সে দেশেও পিঁয়াজের দাম চড়ে যায়। আমদানিকৃত ভারতীয় পিঁয়াজের দামও ব্যাপক চড়ে যায়। পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশ থেকে পিঁয়াজ আমদানির মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে সরকার। নভেম্বর মাসে দেশে মুড়িকাঠি পিঁয়াজ উঠতে শুরু করলে বাজার পড়তে থাকে। সে সাথে ভারতীয় আমদানিকৃত পিঁয়াজের দামও কমে আসে। বাজার স্বাভাবিক হয়।
কৃষি সম্প্র্রসারণ অধিদপ্তরের মনিটরিং উইং এর উপ-পরিচালক মোঃ রফিকুল হাসান জানান, এবার এক লাখ ৯০ হাজার হেক্টরে পিঁয়াজ চাষ হয়েছে। ফলনও ভাল হয়েছে বলে মাঠ পর্যায় থেকে খবর পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের দেশে উত্তর ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় জেলাতে পিঁয়াজের চাষ হয়ে থাকে। তবে ফরিদপুর, রাজবাড়ি, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, পাবনা, বগুড়া, মাগুরা, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া জেলাতে পিঁয়াজের চাষ বেশি হয়। মেহেরপুর জেলাতে ভারতের সুখ সাগর জাতের পিঁয়াজ চাষ হয়ে থাকে। এ জাতের পিঁয়াজ বিঘা প্রতি দেড়শ’ মণ থেকে ২শ’ মণ পর্যন্ত উত্পাদন হয়ে থাকে। মুজিবনগর উপজেলা কৃষি অফিসার মোফাকখারুল ইসলাম বলেন, এবার হেক্টর প্রতি ৩৩ টন গড় ফলন হচ্ছে। তিনি বলেন, পিঁয়াজের দাম পড়ে যাওয়ায় চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি আরো জানান, উপরে পিঁয়াজ সাড়ে ৩শ’ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। নিচে ২শ’ টাকা মণ দরেও নিম্নমানের পিঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। মেহেরপুর সদর উপজেলার চাষি বাবলু মিয়া বলেন, পিঁয়াজের ব্যাপারি মিলছে না। তিনি বলেন, ৩শ’ ২০ টাকা মণ দরে বাকিতে ব্যাপারিদের কাছে পিঁয়াজ বিক্রি করেছেন। এখন টাকা নিয়ে ঘুরাচ্ছে। পিঁয়াজের দর পতনে চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
দেশের মধ্যে ঝিনাইদহের শৈলকুপা পিঁয়াজের বড় মোকাম। ৮ এপ্রিল শৈলকুপা হাটে অন্তত ৩০ হাজার মণ পিঁয়াজ উঠে। ৫০ ট্রাক পিঁয়াজ দেশের বিভিন্ন স্থানে চালান যায়। তাছাড়াও মজুতদাররা গত বছর বাম্পার লাভ করায় এবার শুরুতেই পিঁয়াজ মজুত করছে। এ এলাকায় তাহেরপুরি ও ফরিদপুরি দুটি জাত চাষ হয়ে থাকে। নাবি চাষ করা পিঁয়াজের ফলন ভাল হয়েছে। তাহেরপুরি জাত চাষ করে কেউ কেউ বিঘাতে একশ’ মণ ফলন পেয়েছে।
আমাদের দেশে শুধু রবি মৌসুমে পিঁয়াজের চাষ হয়ে থাকে। মশলা গবেষণা কেন্দ্র বর্ষা মৌসুমে চাষ যোগ্য বারি পিঁয়াজের কয়েকটি জাত উদ্ভাবন ও অবমুক্ত করেছে। বারি পিঁয়াজের এ সব জাতগুলো এখনও মাঠ পর্যায়ে চাষ সম্প্র্রসারণ করা হয়নি। ভারতে সারা বছর ধরে পিঁয়াজের চাষ হয়ে থাকে।