তারুণ্যের দেশপ্রেম

দেশপ্রেম মানুষের একটি অন্যতম প্রধান গুণ। সুনাগরিক তথা সম্পন্ন মানুষ হওয়ার জন্য দেশপ্রেম অপরিহার্য। দুঃখজনক ব্যাপার হলো, আমাদের দেশে আজ প্রকৃত দেশপ্রেমিকের সংখ্যা খুবই কম। নতুন প্রজন্মই আমাদের শেষ ভরসা। নতুন প্রজন্মকে যদি প্রকৃত দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তোলা যায় তবেই তাদের হাতে সুষ্ঠুভাবে দেশ পরিচালিত হবে। লক্ষ করবার বিষয় হলো, এ প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেমের উচ্ছ্বাস যতটা আছে, ততটা গভীরতা নেই। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের প্রকৃত দেশপ্রেমের চেতনায় উজ্জীবিত করতে পারছে না। তাদের অনেকের কাছে দেশপ্রেমের স্বরূপটা অজ্ঞাত। তারুণ্যের দেশপ্রেমের উচ্ছ্বাসটা চোখে পড়ে বিশেষ কিছু মুহূর্তে অথবা জাতীয় দিবসগুলোতে। এরপর সারাবছর দেশপ্রেম তাদের কাছ থেকে দূরে থাকে অথবা তারা দেশপ্রেম থেকে দূরে থাকে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমাদের কাছে দেশপ্রেম বিষয়টা এক ধরনের আনুষ্ঠানিকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবশ্য দেশপ্রেম চোখে আঙুল দিয়ে দেখাবার মতো কোনো বিষয় নয়। এটি চিন্তা-চেতনায় প্রোথিত থাকে। যার বহিঃপ্রকাশটা কাজে-কর্মে প্রতিফলিত হয়। তবে দেশপ্রেম কোনো দিবসকেন্দ্রিক না হয়ে যখন তা জীবনব্যাপী অনুষঙ্গ হয়ে উঠবে তখনই তা হবে প্রকৃত দেশপ্রেম। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে প্রকৃত দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তোলাটা সময়ের দাবি। শুধু পরীক্ষায় পাস আর জিপিএ ৫-এর হার বাড়িয়ে আমরা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবো না। এ বিষয়ে সুধীমহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। তাঁরা যৌক্তিকভাবে তাঁদের মূল্যবান বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। অনেক ক্ষেত্রে বরেণ্য ব্যক্তিদের এমন যৌক্তিক মতামত রাষ্ট্র আমলে নিয়ে কাজ করে না। তাঁদের আলোচনা-সমালোচনা কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকে, বাস্তবায়নের মুখ দেখে না। আমাদের এ হীন অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ প্রজন্মকে গড়ে তুলতে হবে সত্যিকার দেশপ্রেমিক হিসেবে। তাদের শেখাতে হবে কী করে মানুষকে ভালোবাসতে হয়। দেশপ্রেমের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানুষকে ভালোবাসা। ব্যক্তিস্বার্থকে ত্যাগ করে সার্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেশের কল্যাণে আত্মনিবেদিত থাকাই যথার্থ দেশপ্রেমীর আদর্শ। আমাদের এ প্রজন্ম প্রকৃত দেশপ্রেমিক হয়ে উঠুক। তাদের কাছে অন্তহীন প্রত্যাশা— একদিন তারা বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলবে। ঢাকা