লোকসানের কবলে পড়ে ধ্বংসের পথে গোদাগাড়ীর পোল্ট্রি শিল্প
গোদাগাড়ী (রাজশাহী) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০১৪, ২২:১৩
দফায় দফায় মুরগির বাচ্চা, খাবার ও ওষুধের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ধ্বংসের মুখে পড়েছে গোদাগাড়ীর পোল্ট্রি শিল্প। লোকসানের মুখে পড়ে গত দুই বছরে বন্ধ হয়ে গেছে ২শ’ পোল্ট্রি খামার। বাকি যে খামারগুলো রয়েছে সেগুলোও চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে।
উপজেলার ফরাদপুর গ্রামের পোল্ট্রি খামারি নিশাত নাজনীন জানান, বর্তমান বাজারে প্রতিটি একদিনের পোল্ট্রি মুরগির বাচ্চার দাম ৩২ টাকা। ৩৫ দিন ওই বাচ্চাটি খামারে রাখতে দরকার পড়ে ১৪০ টাকার খাবার, ১৫ টাকার ওষুধ এবং দুই টাকার বিদ্যুত্। মাংসের উপযুক্ত করে তুলতে ওই বাচ্চাটির পেছনে প্রায় ১৯০ টাকা খরচ করতে হয়। আর ৩৫ দিনে একটি পোল্ট্রি মুরগির ওজন হয় ১ কোজি ৭০০ গ্রাম। বর্তমানে গোদাগাড়ীর বিভিন্ন হাটে-বাজারে প্রতি কেজি পোল্ট্রি মুরগি খুচরা বিক্রি হচ্ছে ১১০-১১৫ টাকার মধ্যে। আর খামারিরা ওই মুরগি পাইকারী ক্রেতার কাছে বিক্রি করছেন প্রতি কেজি ৭০-৭৫ টাকা দরে। এ অবস্থায় পাইকারী বাজারে মুরগি বিক্রি করে উত্পাদন খরচই উঠছে না খামারিদের। ফলে ক্রমাগত লোকসান গুণতে গুণতে বাধ্য হয়ে এক সময় পোল্ট্রি খামার বন্ধ করে দিচ্ছেন খামারিরা।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসের তথ্যমতে, দুই বছর আগেও গোদাগাড়ীতে ছোট-বড় মিলে প্রায় ৫ শতাধিক পোল্ট্রি খামার ছিল। কিন্তু ক্রমাগত লোকসানের মুখে পড়ে গত দুই বছরে অর্ধেকেরও বেশি পোল্ট্রি খামার বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে ১১৫ টি পোল্ট্রি খামার রয়েছে।
উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কবীর উদ্দীন আহমেদ জানান, পোল্ট্রি খামারে লাভ কমে আসায় খামারিদের মধ্যে রেজিস্টারের আগ্রহ কম। এ কারণে তারা সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি জানান, দেশের সম্ভাবনাময় এ খাতটি এখন সংকটকাল অতিক্রম করছে। চলতি বছরেই লোকসানের কারণে গোদাগাড়ীর অধিকাংশ পোল্ট্রি খামার বন্ধ হয়েছে।