চলনবিলের পাঁচ উপজেলায় ৬শ’ কোটি টাকার রসুন
রুহুল আমিন, চলনবিল (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০১৪, ২২:৪৪
বর্ষার পানিতে ডুবে থাকা চলনবিলের পাঁচ উপজেলায় সাড়ে ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে রূপালী ফসল রসুনের বাম্পার ফলন হয়েছে। উত্পাদিত রসুনের পরিমাণ ১ লাখ ৫১ হাজার টন বলে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়। বর্তমান বাজার মূল্য ৬শ’ কোটি টাকার উপর। রসুনের আবাদ করে বিগত ২ দশকে অর্ধলক্ষ কৃষক পরিবার আর্থিক সচ্ছলতা ঘটিয়ে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছে।
কৃষি বিভাগ ও এলাকার কৃষক সূত্রে জানা যায়, চলনবিলের গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম, চাটমোহর, সিংড়া ও তাড়াশ উপজেলার ক্ষেত-খামারে রসুন উত্পাদনে ‘বিপ্লব’ ঘটেছে। চলনবিলে বিনাচাষে ‘রসুন বিপ্লবের’ মূলে রয়েছেন গুরুদাসপুর উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের হাসমারি গ্রামের একজন কৃষক। বন্যার পানি ক্ষেত থেকে নেমে যাওয়ার পর ১ বিঘা জমিতে কাদায় রসুন বপন করে নাড়া দিয়ে ঢেকে দেয়। উত্পাদন ভাল হওয়ায় পরের বছর গ্রামের অন্যান্য কৃষক এ পদ্ধতিতেই রসুনের আবাদ করেন। এভাবেই প্রতিবছর ক্রমশ রসুনের আবাদ সম্প্রসারিত হয়ে সাড়ে ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে ছড়িয়ে পড়েছে। আগে এসব জমিতে ইরি-বোরোর আবাদ হত। ধানের চেয়ে রসুনের আবাদ লাভজনক হওয়ায় ক্রমশ রসুনের আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এবছর গুরুদাসপুর উপজেলায় রসুনের আবাদ হয় ৭ হাজার ৭৫০ হেক্টর, বড়াইগ্রাম উপজেলায় সাড়ে ৭ হাজার হেক্টর, চাটমোহর উপজেলায় ১ হাজার ৯শ হেক্টর, সিংড়া উপজেলায় ৮শ হেক্টর এবং তাড়াশ উপজেলায় সাড়ে ৪শ হেক্টর। প্রতিবিঘায় ২৮ মণ থেকে ৩৭ মণ পর্যন্ত ফলন দাঁড়িয়েছে। প্রতিবিঘায় গড় উত্পাদন ৩২ মণের উপর বলে গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ও বড়াইগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের গড় উত্পাদন ধরলে উত্পাদিত রসুনের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ৫১ হাজার টনের উপর, যার বর্তমান বাজারমূল্য সাড়ে ৬শ কোটি টাকার মত।
চলনবিলের অর্ধলক্ষাধিক রসুন চাষির নিকট বর্তমান রসুনের আবাদ উত্সবে পরিণত হয়েছে। রসুনের কোয়া বপনের সময় চাষি পরিবারের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও পরিবারে ফিরে এসে বপনকাজে অংশ নেয়। তেমনি পরিপক্ব রসুন ঘরে উঠানোর সময় আবারও তারা বাড়ি এসে রসুন সংগ্রহের উত্সবে মেতে উঠে। এসময় হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়। রসুন আবাদের এলাকার কৃষিশ্রমিক ছাড়াও পার্শ্ববর্তী তাড়াশ, উল্লাপাড়া, ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কৃষিশ্রমিক রসুনক্ষেতে কাজ করেন। বপন ও উঠানোর সময় প্রতি কৃষি শ্রমিকের নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ২শ টাকা থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত মজুরি। রসুনচাষি ছাড়াও রসুনের আবাদের লক্ষাধিক শ্রমিক পরিবারের আয়-রোজগার হয়। এছাড়াও উত্পাদিত রসুন দেশের চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ করছে। সাশ্রয় হচ্ছে রসুন আমদানি খাতের বড় অংকের বৈদেশিক মুদ্রায়। তাই রসুন চাষিরা রসুনকে রূপালী ফসল মনে করে।