কাউখালীতে বৈশাখী মেলা ঘিরে মৃিশল্পীদের ব্যস্ত সময় পার

বর্ষবরণ করতে ব্যস্ত কাউখালীর মানুষ। চলছে নানা আয়োজন। উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন জায়গায় বসবে বৈশাখী মেলা। আর এ মেলাকে সামনে রেখে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন পিরোজপুরের কাউখালীর উত্তর বাজার ও সোনাকুর গ্রামের মৃিশল্পীরা । কালের পরিক্রমায় কোন রকমে টিকে থাকা ৮ থেকে ১০টি পরিবারের সদস্য অন্য দিনের তুলনায় এখন নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে বেশ ব্যস্ততায় দিন কাটাচ্ছেন। উপজেলার উত্তর বাজার মৃিশল্পপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, আট বছরের শিশু সুমন পাল থেকে শুরু করে সত্তরোর্ধ্ব সুধীর পাল পর্যন্ত সকলেই মহাব্যস্ত। কথা বলার সুযোগ নেই তবুও কাজের ফাঁকে কথা হয় তাদের সাথে। সবাই ব্যস্ত মাটির নানা সামগ্রী বানাতে। উঠানে উঠানে রোদে শুকানো হচ্ছে তৈরি করা নানা খেলনা। এরপর এগুলো পোড়ানো হবে। মাটির প্রাণী তৈরি পালপাড়ার বিশেষ বৈশিষ্ট্য বলে জানা গেছে। এই পালপাড়ার প্রত্যেকটি বাড়িই যেন হাতি, ঘোড়া, গরু, বাঘ বানানোর কারখানা। রং করার কাজে ব্যস্ত রবিন পাল জানান, বৈশাখী মেলাকে সামনে রেখে মেলার দিনের জন্য তারা একেকটি পরিবার প্রায় আড়াই হাজার খেলনাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরি করেছেন। অনেক খেলনা এখনো সম্পূর্ণ শুকায়নি তাই তাতে রং না করা হলেও অর্ধেক খেলনায় রং করা হয়ে গেছে। সোনাকুরের কুমার পাড়ায় মাটি দিয়ে তৈরি জিনিসপত্রের মধ্যে রয়েছে হাড়ি-পাতিল, বাঘ, হরিণ,হাঁস, ময়ূর, হাতি, নৌকা, ঘোড়া, গরু, ঘর, ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিমা। এ পাড়ার কোন বাড়ির সদস্যকেই অবসরে বসে থাকতে দেখা যায়নি। সুধীর পাল জানান, ভাদ্র-আশ্বিন মাস থেকেই শুরু হয় তাদের এ কাজ। মাটির প্রক্রিয়া করেন প্রথমে। এরপর সাজ দিয়ে জিনিস বানান। একটি গরু দেখিয়ে বলেন, এটি একসঙ্গে হয় না। শিং, কান এগুলো আলাদা করে দিতে হয়। প্রত্যেকটি প্রাণীরই কিছু কিছু অংশ আলাদা জুড়তে হয়। তারপর রোদে শুকানো। রোদে শুকানোর পর পণীতে (চুলা) পোড়ানো। সবশেষে রঙ করা। এভাবে চলে ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত। বছরের অন্যান্য দিন তারা বেশ দুরবস্থায় থাকলেও গ্রাম-গঞ্জের মেলা ও পূজা অর্চনা আসলেই তারা কর্মমুখর হয়ে ওঠেন।