বিশ্বের ছয় ভাগ দরিদ্রের বাস বাংলাদেশে

বিশ্বের দরিদ্র্য মানুষের ৬ শতংশ বাস করে বাংলাদেশে। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি দরিদ্র্য মানুষের আবাস হলো ভারত। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জি ইয়ং কিম বৃহষ্পতিবার এক ভাষণে বলেছেন, বিশ্বের মোট দরিদ্র্যের ৩৩ শতাংশ ভারতে বাস করে। চীনে রয়েছে ১৩ শতাংশ, এর পরেই রয়েছে নাইজেরিয়া ৭ শতাংশ। তার পরেই রয়েছে বাংলাদেশ ৬ শতাংশ এবং কঙ্গোতে রয়েছে ৫ শতাংশ। এ পাঁচটি দেশে বাস করছে ৭৬ কোটি দরিদ্র্য মানুষ। অন্যদিকে চরম দরিদ্র্যের ৮০ শতাংশের আবাস হলো ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, তানজানিয়া, ইথিওপিয়া এবং কেনিয়া। ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রাতহবিলের (আইএমএফ) বসন্তকালীন বৈঠকে এক প্রতিবেদনে জিম ইয়ং কিম এ তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যদি দরিদ্র্য মানুষের আয় বৃদ্ধি না করা যায় তাহলে লক্ষ্য অনুযায়ী ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বকে দারিদ্র্যমুক্ত করা সম্ভব নয়। বর্তমান গতিতে এগুতে থাকলে ২০১০ সালের ১৭ দশমিক ৭ শতাংশ দরিদ্র্য থেকে ২০৩০ সাল নাগাদ দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বড়জোর ১০ শতাংশে নামানো যাবে। ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে হলে লক্ষ্য অনুযায়ী যারা শোয়া ডলারের কম (প্রায় একশ টাকা) আয় করে এমন চরম দরিদ্রের সংখ্যা প্রতিবছর ৫ কোটি হারে কমাতে হবে। এর মানে হলো সপ্তাহে কমাতে হবে দশ লাখ। তবেই আগামী ১৬ বছরের মধ্যে ১২০ কোটি দারিদ্র্য নিরসন সম্ভব। কিম বলেন, ‘এটা দুরূহ, বিশ্বের অনেক দেশেই জীবন মান পরিবর্তন করা কঠিন। কিন্তু আমি বিশ্বস করি আমরা এটি করতে পারবো’। চরম দারিদ্র্য মুক্ত হতে হলে অন্তর্ভূক্তিমূলক উন্নয়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু বলেছেন, সমৃদ্ধির এ বিশ্বের জন্য এটা দুসংবাদ যে বর্তমানে ১শ’ কোটির বেশি মানুষ চরম দরিদ্র্য। লক্ষ্য অর্জন করতে হলে আমাদরকে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হতে হবে। সেইসাথে নতুন ভাবনা এবং উদ্ভাবনী দিয়ে এর মোকাবেলা করতে হবে।