গাছের আড়ালে প্রতারণা!

ভবনে বাড়তি তলা মানেই যেখানে বাড়তি মুনাফা সেখানে অনেকেই কর্তৃপক্ষের অনুমতির তোয়াক্কা না করে কিংবা তাদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে অননুমোদিত স্থাপনা গড়ে তোলেন। আর এমনই এক কাণ্ড করতে যেয়ে চীনের গুয়াংডং প্রদেশের গুয়াংঝোউ প্রদেশের এক ব্যবসায়ী অভিনব প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সংবাদ শিরোনাম হয়েছেন। শহরের আঠারো তলা একটি টাওয়ার ব্লকের সবচেয়ে ওপরের তলার একটি পেন্টহাউসের ওপর গাছ লাগানোর আড়ালে তিনি গেল কয়েক বছর ধরেই গড়ে তুলেছিলেন বাড়তি দু’টি তলা। তবে ভবনের বেশ কয়েকজন বাসিন্দা ভবনের ওপরের তলায় এভাবে বড় ধরনের বাগান তৈরির কারণে ভবনের ক্ষতি হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে বিষয়টি স্থানীয় বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমকে জানালে কেঁচো খুড়তে সাপ বেরিয়ে আসে। একাধিক সংবাদকর্মী অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই ভবনটি পরিদর্শন করতে গিয়ে সেখানে গাছের আড়ালে অতিরিক্ত দু’টি তলার অস্তিত্ব আবিষ্কার করেন। মূলত বছর দুয়েক আগে ভবনের আঠারো তলার পুরোটাই কিনে নিয়ে সেখানে অননুমোদিত স্থাপনা তৈরির মিশনে নামেন এই ব্যবসায়ী। এজন্য তিনি আঠারো তলা কেনার কিছুদিনের মাঝেই আঠারো তলা তথা ভবনের ছাদে বড় বড় গাছ এবং ঘন ঝোপজাতীয় গাছ লাগাতে শুরু করেন। এ ছাড়া ভবনের ওপরের অংশটিকে অন্য সবার দৃষ্টি থেকে আড়াল করার জন্য এর চারপাশ নেট দিয়ে ঘিরে তাতে দেওয়া হয় প্লাস্টিকের কৃত্রিম গাছের বেষ্টনীও। আর এভাবেই ঘন সবুজের আড়ালে চলতে থাকে বাড়তি দুই তলা নির্মাণের কাজ। এমনকি এ সময় তার তলায় বাড়তি নির্মাণসামগ্রী নিয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি আঠারো তলার সংস্কারের কথাও সবাইকে বলে বেড়ান। এদিকে যাদের অভিযোগের সূত্র ধরে সম্প্রতি এই ঘটনার নেপথ্য বিষয়টি উন্মোচিত হয়েছে সেই অভিযোগকারীদের একজন জানিয়েছেন, বিষয়টির বিস্তারিত জানিয়ে দু’বছর আগেই স্থানীয় কাউন্সিলের কাছে অভিযোগ দিয়েছিলেন তারা। তবে ঐ ব্যক্তির প্রভাব-প্রতিপত্তি ও উঁচু মহলের সাথে যোগাযোগ থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি। এদিকে বিষয়টি সম্পর্কে স্থানীয় কাউন্সিল গণমাধ্যমে কোনো ধরনের মন্তব্য না করলেও একাধিক ভবন বিশেষজ্ঞ এ ধরনের বাড়তি তলা নির্মাণের কারণে ভবনটি ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে বলে মত দিয়েছেন। একই সাথে ইতোমধ্যেই স্থাপনাটির কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে সেটিও পরীক্ষা করে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।