চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি পণ্য খালাসে সময় লাগে ১২ দিন

চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে আসা আমদানি পণ্য খালাস করার ক্ষেত্রে গড়ে ১১ দিন ২২ ঘন্টা সময় লাগে। আর রপ্তানি পণ্যের ক্ষেত্র এই সময় গড়ে সাড়ে ৫ দিন। জাপান, কোরিয়ার বা থাইল্যান্ডের বন্দরের তুলনায় এটি অনেক বেশি। সমপ্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আমদানি-রপ্তানি পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে টাইম রিলিস স্টাডি নামে একটি জরিপ করে। ওই জরিপে এই ফল পাওয়া গেছে। এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। তবে এনবিআর জরিপের ফলাফল এখনো চূড়ান্ত করেনি। আন্তর্জাতিক শুল্ক সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী প্রত্যেক দেশের বন্দরের সক্ষমতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে এই ধরনের জরিপ চালানো বাধ্যতামূলক। সেই হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের আর্থিক সহযোগিতায় এনবিআর এ জরিপ কাজটি চালায়। জরিপে দেখা যায়, আমদানি পণ্যের খালাসের আগ পর্যন্ত এই ১১ দিন ২২ ঘন্টা সময়ের মধ্যে শুল্ক বিভাগের কার্যক্রম সম্পাদনে ৫ দিন আর বাদবাকী সময় ব্যয় হয় শুল্ক-পরবর্তী কার্যক্রম সম্পাদনে। বন্দরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে পণ্য খালাসে এত বেশি সময় বিশ্বের খুব কম দেশের বন্দরে ব্যয় হয়। এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, জাপান ও কোরিয়ার বন্দরে আমদানি পণ্য খালাস করতে সময় লাগে মাত্র ২ ঘন্টা। সেই বিবেচনায় আমাদের বন্দরের সক্ষমতা অনেক কম। বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আমদানি রপ্তানি ও শুল্কায়ন প্রক্রিয়াকে যত দ্রুত সম্ভব অনলাইন ভিত্তিক (এসাইকুডা ওয়ার্ল্ডসহ গ্রীন চ্যানেলে পণ্য খালাস) করার উপর গুরুত্ব দেন তিনি। আমদানি পণ্য খালাস করার এনবিআরের এমন পরীক্ষার ফলাফলকে সঠিক বলেই মনে করছেন রপ্তানিকারকদের সংগঠন এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী। ইত্তেফাককে তিনি বলেন, আমদানিকৃত পণ্য বহির্নোঙ্গরে অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘসময় ধরে। রপ্তানিকৃত পণ্যও অফ ডকে পড়ে থাকে দীর্ঘ সময়। বন্দরের আকার বড় করা, গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ বন্দরের আধুনিকায়ন করার উপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এর ফলে আমদানির ক্ষেত্রে অন্তত ১০ দিন সময় বেঁচে যাবে বলে মনে করেন তিনি। একই সঙ্গে কমবে রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরণের সময়ও। এনবিআর ওই কর্মকর্তা জানান, পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে খালাসের আগ পর্যন্ত ১৪৯ ধরনের ধাপ পার হতে হয়। এরে মধ্যে অনেকগুলো ধাপই অপ্রয়োজনীয়। রপ্তানির ক্ষেত্রেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। চাইলে কম প্রয়োজনীয় অনেক ধাপ বাদ দিয়ে দ্রুত পণ্য খালাস করা সম্ভব।