ট্রাষ্ট ফান্ডে বায়ারদের পর্যাপ্ত অর্থ প্রদানের আহ্বান

রানা প্লাজার নিহত এবং আহতদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের স্বার্থে গঠিত ট্রাষ্ট ফান্ডে ২৯টি বায়ারকে ২৪ শে এপ্রিলের মধ্যে গ্রহণযোগ্য এবং সম্মানজনক অর্থ প্রদানের আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন। এছাড়া আইএলও কনভেনশন ১২১-এর সাথে পেইন এন্ড সাফারিং-এর জন্য ৫ লাখ টাকা যুক্ত করে ক্ষতিপূরণের হিসাব নির্ধারণের আহ্বান জানানো হয়েছে। গতকাল সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের আয়োজনে রানা প্লাজা-তাজরীনের এতিম, আহত এবং ক্ষতিগ্রস্তদের মানববন্ধন কর্মসূচী থেকে তিনি এ আহ্বান জানান। ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল হক আমিন বলেন, আইএলও’র তত্ত্বাবধানে বায়ার, মালিক, সরকার, ট্রেড ইউনিয়ন, এনজিও এবং সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত “রানা প্লাজা কমপেনসেশন এরেজমেন্ট কোঅর্ডিনেটিং কমিটি”-এর হিসাব মতে ক্ষতিপূরণের জন্য যেখানে প্রয়োজন ৪০ মিলিয়ন ডলার, সেখানে বায়াররা এ পর্যন্ত অঙ্গীকার করেছে মাত্র ১৭ মিলিয়ন ডলার যা হতাশাজনক এবং লজ্জাজনক। ওয়ালমার্ট- এর মত বিশাল বহুজাতিক কোম্পানি অঙ্গীকার করেছে ১ মিলিয়নের অর্ধেক, যা শুধু লজ্জাজনকই নয় বরং অবমাননাকরও বটে। রানা প্লাজার ক্ষতিগ্রস্তরা ভিক্ষা বা অনুদান চাচ্ছে না, তারা তাদের পরিবারের নিহত সদস্যদের এবং আহতদের ক্ষতিপূরণ দাবি করছে যা তাদের ন্যায় সঙ্গত অধিকার। তাই ২৯টি বায়ারকে যুক্তি সঙ্গত এবং গ্রহণযোগ্য অর্থ প্রদান করা উচিত। একই সাথে সরকার, বিজিএমইএ এবং সংশ্লিষ্ট মালিকদেরও দ্রুত এগিয়ে আসার দরকার। রানা প্লাজা দুর্ঘটনার ১ বছর এবং তাজরীনের ১৭ মাস পূর্ণকে সামনে রেখে রানা প্লাজা তাজরীনের নিহত আহতদের অবিলম্বে ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবিতে এ কর্মসূচিটি পালন করা হয়। এতে রানা প্লাজা এবং তাজরীনের দুর্ঘটনায় এতিম, আহত, ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক এবং নিহত পরিবারের সদস্যরা অংশ নেয়। তিনি ক্ষতিপূরণের পরিমাণ সম্পর্কে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে উত্থাপিত দাবির সাথে দ্বি-মত পোষণ করে আইএলও কনভেনশন ১২১ এর সাথে পেইন এন্ড সাফারিং-এর জন্য ৫ লাখ টাকা যুক্ত করে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ২০০৫ সালে স্প্রেকটার্ম থেকে শুরু করে স্মার্ট গার্মেন্টস পর্যন্ত পেইন এন্ড সাফারিং-এর জন্য ৫ লাখ টাকা হিসাবে ইতিমধ্যেই এ সকল গার্মেন্টস-এর দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা ক্ষতিপূরণ হিসাবে পেয়েছে কর্মসূচী থেকে রানা প্লাজার পাশাপাশি দ্রুত তাজরীনের নিহত আহতদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করার জন্যও দাবি জানানো হয়। একই সাথে বাংলাদেশের সমগ্র গার্মেন্টস সেক্টরকে “নিরাপদ কর্মস্থল”-এ উন্নীত করার জন্য বায়ার, মালিক, সরকার, শ্রমিক সংগঠনসহ সকলকে এক সাথে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।