পুরনো কাপড় আমদানিতে ব্যবসায়ীদের অনীহা
মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:২১
পুরনো কাপড় আমদানিতে শুল্কের হার বৃদ্ধি করায় আমদানিতে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। এর ফলে অনেকেই আমদানিতে অনীহা দেখাচ্ছেন। খুচরা বাজারে পুরাতন কাপড়ের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। জেলাভিত্তিক জনসংখ্যার ভিত্তিতে কোটা নির্ধারণ করে আমদানিকারকদের লাইসেন্স প্রদান করা হয়। চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় লাইসেন্স ৩ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৬ হাজার করা হয়েছে। আমদানিকারকরা জানান, শুল্কের হার ৪০ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ৬২ শতাংশ করায় পুরাতন কাপড়ের ক্রয়মূল্য অনেক বেড়ে গেছে। এতে লোকসানের আশংকায় অনেকেই আমদানি কমিয়ে দিয়েছে।
সাধারণত মে থেকে আগস্টের মধ্যে পুরাতন কাপড় আমদানি করে গুদামে মজুদ রাখা হয়। পরে শীত মৌসুমে এসব কাপড় দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ হয়ে থাকে। ঢাকা, ময়মনসিংহ, রংপুর, উত্তর অঞ্চলসহ শীতপ্রধান এলাকাগুলোতে এসব পুরাতন কাপড়ের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। শীত মৌসুমে পুরাতন কাপড়ের চাহিদা বেড়ে যায়। আগে চীন, আমেরিকা ও জার্মান থেকে পুরাতন কাপড় আমদানি হতো। এখন তাইওয়ান, জাপান ও কোরিয়া থেকে বেশিরভাগ পুরাতন কাপড় আমদানি হয়ে থাকে। পুরাতন কাপড়ের মধ্যে রয়েছে প্যান্ট, শার্ট, কম্বল, জ্যাকেট, সোয়েটার ইত্যাদি। ব্যবসায়ীরা জানান, আগে বছরে ১৫ কোটি টাকার পুরাতন কাপড় আমদানি করা হতো। এখন তা ৬০ কোটি টাকা হয়েছে। তাছাড়া আগে পুরাতন কাপড়ের চাহিদা বাংলাদেশে বেশি ছিল। এখন অন্যান্য দেশও এসব শীতকালীন পুরাতন কাপড়ের চাহিদা থাকায় তারা আমদানি করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পণ্যের দামও তুলনামূলকভাবে বেড়েছে। কেজি ওজনের ভিত্তিতে পণ্য বেচাকেনা হয়ে থাকে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি কেজির মূল্য ২০ থেকে ২২ ডলার। তার সাথে শুল্কের হার বৃদ্ধি করায় বিপাকে পড়েছে পুরাতন কাপড় আমদানিকারকরা।
আমদানিকারকরা জানান, জেলাভিত্তিক জনসংখ্যা অনুপাতে আমদানি কোটা নির্ধারণ করা হয়। প্রতিটি লাইসেন্সের মূল্য ৫০ হাজার থেকে উন্নীত করে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে। প্রতি বছর লাইসেন্স প্রদান করা হয়। জেলার ডিসির নেতৃত্বে ৩ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি রয়েছে। কোটার চেয়ে লাইসেন্সের চাহিদা বেশি থাকলে লটারির মাধ্যমে লাইসেন্স প্রদান করা হয়। দেশে মোট ৬ হাজার লাইসেন্সের মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় রয়েছে ৩০৭টি। ব্যবসায়ীরা জানান, কয়েকজন মিলে গ্রুপভিত্তিক এলসি করে থাকেন। ব্যাংকগুলোর পরামর্শে গ্রুপভিত্তিক এলসি করা হয় বলে ব্যবসায়ীরা জানান।
এ প্রসঙ্গে পুরাতন কাপড় আমদানিকারক মো. নাছিরউদ্দিন ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, ‘শুল্কের হার বৃদ্ধি করায় আমদানি মূল্য বেড়ে গেছে। এতে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে। আমদানিও কমে যাবে। দেশের গরীব মানুষের কথা বিবেচনা করে পুরাতন কাপড় আমদানিতে শুল্কের হার কমানো প্রয়োজন।’ আরো কয়েকজন আমদানিকারকের সাথে কথা বলে জানা যায়, সিন্ডিকেটের হাতে পুরাতন কাপড়ের ব্যবসা জিম্মি হয়ে পড়েছে। নতুন করে কেউ আসতে পারছে না। অধিকাংশ আমদানিকারক চট্টগ্রামের এবং চট্টগ্রামে বসে ব্যবসা করেন। অধিকাংশ আমদানিকারকের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান খাতুনগঞ্জে। এক সময় অবাঙালিরা পুরাতন কাপড়ের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতো। তবে এখন তাদের সেই আধিপত্য নেই। অনেকেই নতুন করে এই ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে। শীতকালীন কাপড় ছাড়াও বিভিন্ন মৌসুমের চাহিদা অনুপাতে পুরাতন কাপড় আমদানি হয়ে থাকে। তবে এই ব্যবসায় শীতকালীন কাপড়ের প্রাধান্য।
এক সময় চট্টগ্রামের জহুর হকার মার্কেট পুরাতন কাপড়ের প্রধান পাইকারী বাজার ছিল। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হতো। বর্তমানে জহুর হকার মার্কেটে দেশের গার্মেন্টসে তৈরি পোশাকের ব্যবসা বেড়ে গেছে। পুরাতন কাপড়ের দাম বৃদ্ধি ও গার্মেন্টসের কাপড়ের ব্যাপকতায় পণ্যের বাজারে এক ধরনের প্রতিযোগিতা চলছে।