এবারেও গতানুগতিক মিশ্র অ্যালবামের বৈশাখ!

অডিও বাজারে এই বৈশাখেও একাধিক অ্যালবাম বের হচ্ছে। তবে এর অধিকাংশেরই কোনো ধরনের মান বজায় থাকছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এর ভেতরে বৈশাখী অ্যালবামের উল্লেখ করার মতো অ্যালবাম হলো সিডি চয়েস থেকে প্রকাশিত কুমার বিশ্বজিতের একক এবং লেজার ভিশন থেকে প্রকাশিত মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের নতুন চলচ্চিত্র ‘তারকাঁটা’র নতুন অডিও অ্যালবাম। এর বাইরে একাধিক মিশ্র অ্যালবাম তাদের ক্যাটাগরি অনুযায়ী কোনো বৈশিষ্ট্য তৈরি করতে পারেনি। সকলেই গতানুগতিকভাবে একাধিক শিল্পীর ডুয়েট গান নিয়ে একটা জগাখিচুরি তৈরি করেছেন। নব্বই দশকে আশিকুজ্জামান টুলু, প্রণব ঘোষ, প্রিন্স মাহমুদ যে ধরনের ফিচারিং অ্যালবাম বের করত তা ক্রমেই যেন সোনালি অতীতে পরিণত হয়েছে। এই বৈশাখে নিজের সিক্যুয়েল মিক্সড অ্যালবাম বের করেছেন গীতিকার ফয়সাল রাব্বিকীন। মিশ্র অ্যালবাম মানেই বিভিন্ন শ্রেণীর শিল্পীদের একাট্টা হয়ে গান গাওয়া। এই ভুল ব্যাকরণেই এখন ক্রমশ বাড়ছে ইন্ডাস্ট্রিতে। প্রকাশকেরা এখন তাই সুরকার খুঁজছেন না। খুঁজছেন অধিক শিল্পীকে কে একাট্টা করতে পারে এমন কন্ট্রাক্টর! কারণ তাহলেই এই অগণিত গানের ভিড়ে একটি বা দুটি গান রিং টোন বা ওয়েলকাম টিউনে লেগে গেলেই তো প্রকাশকদের উদ্দেশ্য হাসিল হয়ে যায়। এভাবেই চলছে এখনকার অডিও বাজার। এর ভেতরে লেজার ভিশন মূল ধারার ক’জন শিল্পীদের কিছু গানের অ্যালবাম প্রকাশ করছেন। তবে এই ‘ফিচারিং’ শব্দের যথেচ্ছাচার চলছে গোটা ইন্ডাস্ট্রিতে। কারণ আগে একজন পরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত মিউজিশিয়ান বাকি প্রখ্যাত বা প্রতিভাবান শিল্পীদের শ্রোতাদের সামনে উপস্থাপন করতেন। কিন্তু এখন যিনি ফিচার করছেন বলে পোস্টার বের হচ্ছে, তাকেই হয়তো কেউ চেনেন না। আর এভাবেই হাস্যকর প্রক্রিয়ায় আনকোরা ও অযৌক্তিকভাবেই প্রকাশকরা নিজেদের মূর্খতা প্রকাশ করছে তাদের অডিও অ্যালবামের কাভার ও পোস্টারে।