নন-টেক্সটাইল রুগ্ন শিল্পের তহবিল ব্যয় মওকুফের দাবি

নন-টেক্সটাইল খাতের ১০৯টি রুগ্ন শিল্পের তহবিল ব্যয় মওকুফের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে ‘বাংলাদেশ রুগ্ন শিল্প মালিক ঐক্য ফোরাম’। গতকাল সচিবালয়ে অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নানের সঙ্গে বৈঠককালে সংগঠনের নেতারা এ দাবি জানান। বৈঠক শেষে সংগঠনের আহবায়ক এফ এইচ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের অন্যান্য নীতি নির্ধারকরা রুগ্ন শিল্প সংক্রান্ত জটিলতার নিরসন চাইলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বিষয়টি ঝুলে আছে। সার্বিকভাবে রুগ্ন শিল্পগুলোর সমস্যা সমাধানে গঠিত টাস্কফোর্সের সুপারিশের আলোকে অনধিক ৫০ লাখ টাকা মূল প্রকল্প ঋণ রয়েছে এমন ২৭৯টি পোশাক শিল্প ও ৬৯টি বস্ত্র শিল্প কস্ট অব ফান্ড বা তহবিল ব্যয় মওকুফে শতভাগ শিথিলের সুবিধা পেয়েছে। টাস্কফোর্সের সুপারিশ অনুযায়ী নন-টেক্সটাইল খাতের ১০৯টি রুগ্ন শিল্পও এ সুবিধা প্রাপ্য। কিন্তু এটা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হচ্ছে না এবং ব্যাংকগুলোও তা মানছে না। তিনি বলেন, রুগ্ন শিল্পগুলোর সমস্যা সমাধানে চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। রুগ্ন শিল্পগুলোকে সহযোগিতার জন্য যে প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে সেখানে সুদের হার ৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে ৩ শতাংশ ভর্তুকি দেবে সরকার। এফ এইচ চৌধুরী বলেন, সুদের হার পুরোটাই আমরা বহন করতে রাজি আছি, এতে সরকারের প্রায় ২২৫ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। কিন্তু কস্ট অব ফান্ড শিথিল না করলে আমাদের পক্ষে ঋণমুক্ত হওয়া সম্ভব নয়। উল্লেখ্য, ১০৯টি নন-টেক্সটাইল শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে ব্যাংকগুলোর বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ২৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। বর্তমানে এদের কাছে ব্যাংকগুলোর মোট পাওনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৮৩ কোটি ২১ লাখ টাকা। রুগ্ন শিল্প মালিকদের দাবির প্রেক্ষিতে অর্থ প্রতিমন্ত্রী বলেন, খুব শিগগিরই এটি সুরাহা করা হবে। অর্থমন্ত্রী দেশে ফিরে এলেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এর আগে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে তাদের দাবির বিষয়টি আলোচনা করে এর একটি সারাংশ তৈরি করা হবে বলে জানান তিনি।