পবা উপজেলার নওহাটা উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিত্সকের অপেক্ষায় থাকে রোগীরা

সকাল তখন ১০টা। রাজশাহী মহানগরীর উপকণ্ঠ পবা উপজেলার নওহাটা উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ২০ জন রোগী চিকিত্সকের পরামর্শের জন্য দরজার সামনে অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিক্যাল অফিসার হাসান আল খুরশীদ (জয়তু) তখনো অনুপস্থিত। ডা. জয়তু জরুরি কাজে বাসায় কিংবা ট্রাফিক জ্যামে রাস্তায় আটকে পড়েননি। তিনি তখনো রোগী দেখছিলেন স্থানীয় একটি ডায়াগনষ্টিক সেন্টার ‘ পীয়ারলেস’ এর চেম্বারে। শুধু এদিন নয়, প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে তিনি সেখানে রোগী দেখেন। যদিও নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৮টা থেকে তার স্বাস্থ্য উপ-কেন্দ্রে থাকার কথা। যদি কখনো আসেন, ফিরে যান নির্ধারিত দুপুর আড়াইটার অনেক আগেই। অবশ্য ওই সময়ে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের নিজ নিজ চেম্বারে রোগী দেখছিলেন উপ-সহকারী মেডিক্যাল অফিসার আব্দুল্লাহ- আল-জাঈদ ও শাকিলা শাহ্। সেখানে রাজশাহীর সাংবাদিকদের কথা হয় চিকিত্সার জন্য আসা নওহাটার পাকুড়িয়া গ্রামের নেশার আলী জানান, মেডিক্যাল অফিসারের জন্য অপেক্ষায় রয়েছি। গত রবিবার এসেছিলেন পেটের ব্যথা নিয়ে। মেডিক্যাল অফিসার হাসান আল খুরশীদ (জয়তু) তাকে নওহাটার ‘পীয়ারলেস ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে’ পাঠিয়ে দেন। এরপর সেখানে তার বেশ কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ভর্তি করেন। সেখানে ছিলেন দুই দিন। দুই দিনই তাকে শুধু স্যালাইন দেয়া হয়েছে। এতে কোনো উন্নতি না হওয়ায় মঙ্গলবার আবারো এসেছেন ওই চিকিত্সকের কাছে। পবার বড়গাছি জোলাপাড়ার মোমেনা বেগম জানান, গত ৬ এপ্রিল তলপেটে ব্যথা নিয়ে তিনি নওহাটা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আসেন। ডাক্তার জয়তু তাকেও পাঠিয়েছিলেন ‘পীয়ারলেস ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে’। সেখানে তার পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রিপোর্ট তৈরি করে দিয়েছেন ডা. জয়তু নিজেই। বলেছেন, ‘জরায়ুতে টিউমার, বাঁচতে চাইলে তাকে খুব দ্রুত অপারেশন করাতে হবে। কোথায় গিয়ে অপারেশন করানো হবে? সেটাও তিনি বলে দিয়েছেন। কিন্তু ডা. জয়তুর কথায় সন্দেহ হয় মোমেনা বেগমের। পরে তিনি নগরীর ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালে গিয়ে নতুন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করান। সেখান থেকে তাকে জানানো হয়, ‘তার জরায়ুতে কোনো টিউমার নেই’। যোগাযোগ করা হলে পবা থানা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফেরদৌস নীলুফার বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি তিনি কর্তৃপক্ষকে জানাবেন বলে জানান। অন্য দিকে জেলা সিভিল সার্জন ডা. শহীদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, উত্থাপিত অভিযোগ তদন্ত করা হবে। সত্যতা পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।