অভিযোগ গঠন বাতিল চেয়ে খালেদার আবেদন

জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় বিচারিক আদালতের অভিযোগ গঠন আদেশ বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন দায়ের করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বিচারপতি বোরহানউদ্দিন ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের ডিভিশন বেঞ্চে আগামী বুধবার এ আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে। গতকাল রবিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় দায়েরকৃত আবেদনে ওই দুই মামলায় অভিযোগ গঠনের আদেশ কেন বাতিল করা হবে না- মর্মে রুল জারির পাশাপাশি মামলার কার্যক্রম স্থগিত ও মামলার রেকর্ড তলবের আর্জি জানানো হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়েরকৃত এই দুটি মামলায় গত ১৯ মার্চ ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানসহ নয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। এই অভিযোগ গঠন বাতিল চেয়ে করা আবেদনে বলা হয়েছে, ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪১(১) ধারা অনুসারে অন্য যে কোনো আসামির মতো খালেদা জিয়া মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন করেছিলেন। তার সেই আবেদনের শুনানি না করেই অভিযোগ গঠন করা হয়। অভিযোগ গঠনের পূর্বে খালেদা জিয়াকে অভিযোগ পড়ে শোনানো হয়নি। তিনি দোষী নাকি নির্দোষ সেটাও খালেদা জিয়াকে জিজ্ঞেস করেনি আদালত। বিচারক খাস কামরায় বসে পেশকারের মাধ্যমে অভিযোগ গঠনের বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছেন মাত্র। এভাবে অভিযোগ গঠন ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪২ ধারা লঙ্ঘন বলে দাবি করেন খালেদার আইনজীবী ব্যারিস্টার এম মাহবুবউদ্দিন খোকন। তিনি বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার জব্দ তালিকায় কোথাও ওই ট্রাস্টের কার্যক্রমে খালেদা জিয়ার স্বাক্ষর রয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই এখানে খালেদাকে আসামি করা ঠিক হয়নি। আর জিয়া চ্যারিট্যাবল ট্রাস্ট মামলায় সরকারের কোনো টাকা নেই। এটা দুদকের তফসিলভুক্ত অপরাধ নয়। জমি কেনায় টাকা কম দেখিয়ে মাসুল ফাঁকি দিলে ডিসি মাসুলের টাকা চাইতে পারেন। ২০১১ সালের ৮ আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা দায়ের করে দুদক। এ মামলার এজাহারে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ট্রাস্টের নামে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাত্ করার অভিযোগ আনা হয়। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে অনিয়মের অভিযোগে দুদক ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা দায়ের করে। এতিমদের সহায়তার জন্য একটি বিদেশি ব্যাংক থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয় এ মামলায়।