আমার কথা
প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০১৪, ১৯:৫৮
আমার প্রথম লেখার নাম ‘শপথ’। আমার ‘মা’ যশোরের শতদল পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ছিলেন। সম্পাদক বেগম আয়েশা সরদার। আর নির্বাহী সম্পাদক বিশিষ্ট সাংবাদিক মশিউল আজম। আমার ‘শপথ’ শিরোনামের লেখাটি প্রথম ঐ পত্রিকাতেই ছাপা হয়। তখন আমি ক্লাস ফাইভের ছাত্র। ১৯৭০ সালের শেষ দিক। দেশের অবস্থা ক্রমশ উত্তেজনার দিকে বাঁক নিচ্ছে। আমার প্রকাশিত কবিতাটি নিয়ে বন্ধুদের দেখাতাম। দেখাতে দেখাতে পত্রিকাটি প্রায় বিবর্ণ হয়ে গেল তবু উত্তেজনা শেষ হয় না। মায়ের প্রেরণাতেই লেখার ধারাবাহিকতা তৈরি হয়। মা চাইতেন তার ছেলে কবি হবে। এতোকিছু থাকতে কেন যে মা তার ছেলের কবি হওয়াকে প্রাধান্য দিলেন তা এখনো রহস্যময়। তবে ১৯৭০ সালে সেবাসংঘ বিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন কবি সুফিয়া কামাল। তাঁকে দেখতে গিয়েছিলাম মায়ের সাথে। একজন কবির যে সমাদর ঐ কৈশোরে দেখেছিলাম তা আজো মনে আছে। মাঝারি গড়নের অতি সাধারণ কিন্তু অভিজাত এক নারী। ব্যক্তিত্বের ঔজ্জ্বল্যে সপ্রতিভ। সবাই তাকে নিয়ে ব্যস্ত। সালাম করছে কেউ ছবি তুলছে। অনেকে আবার নানা খাদ্যের সমাহার নিয়ে ছোটাছুটি করছে। এখন বুঝি একজন বড় কবি কত মহত্তম। জাতির বিবেক। কবি শামসুর রাহমানকে আশির দশকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে দেখেছিলাম—তিনি যখন বললেন, ‘উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ’। আমার লেখা জাতীয় পত্র-পত্রিকায় আশির দশকেই ছাপা শুরু হয়। ইত্তেফাক ছিল সবচে’ গুরুত্বপূর্ণ দৈনিক। কচি-কাঁচার আসরে ছোটদের জন্যে লেখা ছাপা হতো। কত নামি-দামি লেখক। তাদের সাথে লেখা প্রকাশের আকুতি আমাকে তাড়িত করতো। রোকনুজ্জামান খান দাদা ভাই কচি-কাঁচার আসরের পরিচালক। ১৯৮১ সালের ঈদ সংখ্যায় ‘আছে’ শিরোনামে একটা লেখা পাঠালাম। লেখাটি চমত্কার করে ছাপা হলো। আনন্দে আত্মহারা। বন্ধুরা ফোনে অভিনন্দন জানালো। বড়রা বললো, তুমি আমাদের গর্ব। এভাবেই যাত্রা শুরু। তখন ইত্তেফাকে একবার লেখা ছাপা হলে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হতো না। এখন আর এমন একক প্রভাবশালী কাগজ নেই। সেই থেকেই ইত্তেফাকের সাথে অবিচ্ছেদ্য বন্ধনে আটকে গেলাম। আজো ইত্তেফাকে লেখা ছাপা হলে আনন্দ পাই। কচি-কাঁচার আসরের পরিচালক শ্রদ্ধেয় দাদা ভাইয়ের কথা মনে পড়ছে। মফস্বলের তরুণ লেখকদের ভালো লেখাগুলো তিনি বেছে বেছে ছেপে দিতেন। তখন যশোর থেকে লেখা পাঠাতাম, আর দাদা ভাই ছাপতেন। এখনো এমনটি করা হয়। মনে আছে গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় একটা ছড়া লিখেছিলাম কচি-কাঁচার আসরে। কবি জয় গোস্বামী বাংলাদেশে এসেছিলেন। তিনি লেখাটি পড়েছিলেন। আজিজ সুপার মার্কেটে এসে লেখাটির প্রশংসা করলেন। এখনো প্রথম লেখা প্রকাশের আনন্দের স্মৃতি অম্লান। যতদিন বাঁচবো সেই স্মৃতি স্মরণ করবো এজন্য যে— আমার শুরুটা কেমন ছিল আর, কিভাবে তার সমাপ্তি ঘটলো।
আমি বৃহত্তর যশোর জেলার নলভাঙা গ্রামে ১৯৬২ সালের ২২ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেছি। আমার বাবার নাম বোরহানউদ্দিন আহমেদ ও মায়ের নাম রেবেকা সুলতানা। আমার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ত্রিশের অধিক। আর ছোটদের জন্য প্রকাশিত হয়েছে দুটি বই। বই দুটির নাম শৈশব ও হাঁটতে থাকো।
আমি অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছি। এর মধ্যে বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন পুরস্কার, খুলনা রাইটার্স ক্লাব, ঢাকা সিটি করপোরেশন পুরস্কার ও ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট সম্মাননা বিশেষভাবে উল্লেখ্য। আমি সারাজীবন লিখতে চাই।