তোমাদের জন্য লেখা
প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০১৪, ১৯:৫৯
জাতীয় শিশু দিবস-২০১৪
বাঙালির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার দীর্ঘ সংগ্রাম ও আন্দোলনের ফলে বাংলাদেশের অভ্যুদয়। গত ১৭ মার্চ ছিলো বঙ্গবন্ধুর ৯৪তম জন্মদিন — জাতীয় শিশুদিবস।
প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে প্রকাশিত আলোচ্য সংকলনটিতে জাতির পিতার সংগ্রামী জীবনের নানা ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে এবং তাকে নিবেদিত অনেকগুলো ছড়া-কবিতা স্থান পেয়েছে। সংকলনটিতে যারা লিখেছেন তারা হলেন: সৈয়দ শামসুল হক, সেলিনা হোসেন, হাশেম খান, হায়াত্ মামুদ, বেগম মমতাজ হোসেন, মাহবুব তালুকদার, মনি হায়দার, ফয়সাল শাহ, মহাদেব সাহা, রবিউল হুসাইন, আখতার হুসেন, আমিরুল হক, লুত্ফর রহমান রিটন, মুস্তাফা মাসুদ, আমীরুল ইসলাম, সুজন বড়ুয়া প্রমুখ।
সংকলনটির শুরুতে রয়েছে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকী, সংশ্লিষ্ট সচিব তারিক উল ইসলাম, শিশু একাডেমির পরিচালক মোশাররফ হোসেন এর বাণী ও কথা।
পুরো সংকলনটি আর্ট পেপারে চার রঙে ছাপা। অলঙ্করণ ও প্রচ্ছদপট অপূর্ব। প্রচ্ছদপট শিল্পী হাশেম খানের আঁকা। অলঙ্করণ করেছেন শিল্পী হাশেম খান, শেখ আকমাল, আজিজুর রহমান ও সোহাগ পারভেজ। সম্পাদক মোশাররফ হোসেন ও নির্বাহী সম্পাদক সুজন বড়ুয়া। প্রকাশিত হয়েছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বাংলাদেশ শিশু একাডেমি থেকে।
রোকসানা ফেরদৌস
০০০০
মুজিবনগরের গল্প
মুজিবনগর কোথায়? এ প্রশ্নটির সঠিক উত্তর এ প্রজন্মের অনেকেরই অজানা। অথচ আজ থেকে ৪৩ বছর আগে এই মুজিবনগরেই প্রথম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিক শপথ নিয়েছিলেন, যা গঠন করা হয়েছিলো একাত্তরের ১০ই এপ্রিল। তখন মুজিবনগরের নাম ছিলো বৈদ্যনাথতলা। যার অবস্থান বর্তমান মেহেরপুর জেলার ভবেরপাড়া। শপথ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ বৈদ্যনাথতলার নামকরণ করেন মুজিবনগর। ঐ অনুষ্ঠানেই বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, উপরাষ্ট্রপতি (ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি) সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি আতাউল গনি ওসমানীর নাম ঘোষণা করা হয়। মুজিবনগর ছিলো বাংলাদেশের প্রথম রাজধানী এবং একাত্তরের প্রথম সরকারের সকল কর্মকাণ্ড মুজিবনগর ঠিকানায় সম্পাদিত হয়েছিলো। অবশ্য সরকারের প্রবাসী ঠিকানা ছিলো কলকাতা।
একাত্তরের অবিস্মরণীয় এসব ঘটনা মামা-ভাগ্নের ভ্রমণ কাহিনীর মাধ্যমে আলোচ্য বইটিতে সহজ-সরল ভাষায় বর্ণনা করেছেন নামজাদা কথাশিল্পী রফিকুর রশীদ। ভাগ্নে আবীর ও মন্টু মামার মেহেরপুর থেকে মুজিবনগর যাত্রার বর্ণনার মাধ্যমে বইটির শুরু।
আবীর মুজিবনগর গিয়ে একাত্তরের স্মৃতি স্থাপনাগুলো দেখে একাত্তরের ইতিহাস জেনে নেয় এবং একটি চিঠি লিখে তার মতো ছোটদের মুজিবনগরে যাবার অনুরোধ করে। বইটির পাতায় পাতায় রয়েছে একাত্তরের ঘটনার অনুসরণে অনেকগুলো স্থাপনা। যা একাত্তরের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের এক একটি স্মারক। মুজিবনগরকে নিয়ে এ ধরনের বই এর আগে কখনো লেখা হয়নি। বইটি উন্নতমানের কাগজে চাররঙে ছাপা। স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস জানার জন্য ছোটদের অবশ্যই এ বইটি পাঠ করা উচিত। অবশ্য বইটির শেষ প্রচ্ছদে বইয়ের বিজ্ঞাপন বেমানান ঠেকে। এটি প্রকাশ করেছে ঢাকার ইত্যাদি গ্রন্থপ্রকাশ। মূল্য একশত টাকা।
খালেক বিন জয়েনউদদীন