ইরার ছুটে চলা
প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০১৪, ২০:০৮
যখন আমি খুব ছোট ছিলাম আমার মনে আছে আমি খুব চাইতাম আমার ছবি বিলবোর্ডে আসুক। আমি খুব চাইতাম আমি দেশসেরা অভিনয় শিল্পী হয়ে উঠি দিন দিন। আমি চাইতাম কোন একটা ম্যাগাজিন আমাকে নিয়ে তাদের প্রচ্ছদ করুক। আমার স্বপ্ন দিন দিন সত্যি হয়ে উঠছে। আমার মনে হয় আমি এগিয়ে যেতে পারছি আমার সেই লালিত স্বপ্নের হাত ধরে। এতক্ষণ কথাগুলো এভাবেই অনিমেষ শুনছিলাম ইরার কাছ থেকে। ইরার পুরো নাম ইরা মাসুক। মিরপুর গার্লস ল্যাবরেটরি কলেজ থেকে এইচএসসি শেষ করে বর্তমানে পড়ছেন ইডেন মহিলা কলেজে সমাজ কর্ম নিয়ে অনার্স শেষ বর্ষে। এ পর্যন্ত কাজ করেছেন অসংখ্য পোশাক হাউজের মডেল হিসেবে। তবে শুরুটা হয়েছিল ডিজুসের মডেল হিসেবে। এরপর কাজ করেছেন রবি, সিটিসেল, প্রিমিয়ার ব্যাংক, জিপি অফারসহ বেশ কিছু বিলবোর্ডে।
সারাদেশে যখন ইরার বিলবোর্ড ছাপা হয়, তখন থেকেই মূল অনুপ্রেরণাটা আসলে আসতে থাকে। তারপর থেকে আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি ইরার। পথ চলেছেন আরো বহুদূর। কাজ করেছেন ওয়ালটন মোবাইল, রেডিও টুডে, আর এফ এল আলমিরাসহ বেশ কিছু বিজ্ঞাপনচিত্রে। তবে হালের এই আলোচিত মডেলকে দেখা যাচ্ছে উপস্থাপনায়ও। নিয়মিত উপস্থাপনা করছেন চ্যানেল নাইনে মিউজিক বক্স এবং এশিয়ান টিভিতে স্টার অফ দ্য ওয়ার্ল্ডে। তবে সময়ের এই বহুমুখী প্রতিভা আর কাজ করেছেন ইলিয়াস হুসাইন এবং সাহারিয়ার রাফাতসহ বেশ কিছু গায়কের বেশ কিছু মিউজিক্যাল ফিল্ম। তবে নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে চান আরো অনেক দূর। অভিনয় করে একদিন সবার মনের আসনে বসবেন আমাদের ইরা। এই স্বপ্নই রোজ দেখেন। তাই এখন থেকেই শেখা
শুরু
করেছেন অভিনয়, নাচ, গান। আর পশাপাশি ইরা সম্পর্কে রয়েছে এটি অজানা তথ্য। সময় পেলেই আঁকতে বসে যান ইজেল, ক্যানভাস আর রং পেন্সিল নিয়ে। তারপরও ইরা সবসময় বাবা-মাকে সব কিছুর ধ্যানগায়ন মনে করে থাকেন। এ নিয়ে রয়েছে এক মজার ইতিহাস ইরার জীবনে।
খুব ছোটবেলার গল্প। ইরা চাইতেন অভিনয় করতেন। আর বাবা বলতেন পিচ্চিরা তো অভিনয় করতে পারে না। তোমাকে বড় হতে হবে। ১৮ বছর না হলে তুমি অভিনয় করতে পারবে না। তাই ইরা সবসময় অপেক্ষায় থাকতেন কবে আঠারো বছর পূরণ হবে। সেই ইরা ১৮ হবার পরপরই নেমে গেলেন তার স্বপ্নের কাছাকাছি। নিজের কাজ নিয়ে ব্যাপক আশাবাদী। পরিবার তাকে এই জন্য সবসময় দিয়ে আসছে সমর্থন। তাই আশা করা যায় খুব বেশিদিন বাকি নেই যেখানে দেখতে পাচ্ছি ইরা লাল কার্পেটের উপর দিয়ে হেঁটে আসছেন।