চট্টগ্রাম বন্দরে লাখ লাখ টাকা কর ফাঁকি
সালাহউদ্দিন মো. রেজা, চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:০০
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরে পণ্য খালাসে নিয়োজিত শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরের অনেক প্রতিষ্ঠান সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকার কর ফাঁকি দিয়ে আসছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ কিংবা আয়কর বিভাগের কোন প্রকার তদারকি না থাকায় ওই সকল প্রতিষ্ঠানে কর ফাঁকি দেয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ জানান।
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরে মাদার ভেসল বা বড় জাহাজ থেকে পণ্য লাইটারেজ জাহাজে হ্যান্ডলিং কাজে বর্তমানে সর্বমোট ২৬টি প্রতিষ্ঠান কাজ করে থাকে। শিপ হ্যান্ডলিং-এর নামে এ সকল প্রতিষ্ঠান তাদের কাজের জন্য বাত্সরিক ৪ লক্ষ টাকা বন্দরকে প্রদান করলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক এদের নিয়ন্ত্রণের কোন ব্যবস্থা নেই। কারণ এরা বন্দরে নির্দিষ্ট লাইসেন্সের আওতায় নেই। একইভাবে কোন ফি প্রদান করে না। তাছাড়া তারা কি পরিমাণ পণ্য হ্যান্ডলিং করছে তাও সঠিকভাবে মনিটরিং-এর ব্যবস্থা নেই। তাছাড়া আয়কর বিভাগ কর্তৃক পণ্য হ্যান্ডলিং-এর পরিমাণের ওপর আয় এবং সেক্ষেত্রে সরকারের আয়কর ও উত্স কর সঠিকভাবে প্রদান করা হচ্ছে কিনা তা মনিটরিং করা হয় না। প্রতিষ্ঠানসমূহ সেলফ এসেসমেন্ট পদ্ধতিতে তাদের কর প্রদান করে থাকে।
বিগত অর্থবছরে বন্দরের বহির্নোঙ্গরে কর্মরত ২৬টি শিপ হ্যান্ডলিং প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১টি প্রতিষ্ঠানের উত্স কর ফাঁকি ও আত্মসাতের তথ্য উদঘাটিত হয়েছে বলে জানা যায়। বাকী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কেউ জড়িত রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রাম আঞ্চলিক অফিসের তদন্তে শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরদের কর ফাঁকি দেয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। বন্দরের ট্রাফিক বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ জানিয়েছেন, দুদক তাদের নিকট শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরদের ব্যাপারে তথ্য চাইলে তা প্রদান করা হয়েছে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উত্স কর ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ থাকলেও প্রাথমিকভাবে সর্বশেষ যে ১১টি প্রতিষ্ঠানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে তার মধ্যে এসোসিয়েটেড ট্রেডার্স এন্ড মেরিনার্স কর্তৃক প্রায় ১৯ লক্ষ ২৮ হাজার টাকা উত্স কর ফাঁকি দেয়ার তথ্য পায়। প্যাসিফিক ইন্টারন্যাশনাল কর্তৃক ৫ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা, সিলিফট স্টিভিডোরিং কর্তৃক প্রায় ২৭ লক্ষ টাকা, প্রেস্টিজ কর্পোরেশন কর্তৃক প্রায় ৯ লক্ষ টাকা, আর এ চৌধুরী কর্তৃক ১১ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা, গ্রিন এন্টারপ্রাইজ কর্তৃক প্রায় ৩১ লক্ষ টাকা, গ্রেট বেঙ্গল এন্টারপ্রাইজ কর্তৃক ৬ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা, হাজী ইদ্রিস এন্ড কোম্পানি কর্তৃক ১৪ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা, এইচএম মেরিনার্স এজেন্সিজ কর্তৃক ২৩ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা, ইউনিয়ন ট্রেডার্স কর্তৃক ১৯ লক্ষ ৩৮ হাজার টাকা এবং এমএ কামাল এন্ড কোম্পানি কর্তৃক ২৩ লক্ষাধিক টাকা উত্স কর ফাঁকি দেয়ার তথ্য উদঘাটিত হয়েছে।