বর্ষবরণে বিদেশিদের বাঙালিয়ানা

সাদা রংয়ের শাড়িতে লাল পাড়, গালে-হাতে বৈশাখী আল্পনা, এক হাতে বাজাচ্ছেন ছোট্ট ডুগডুগি, আর একটু পর পর হেসে উঠছেন সঙ্গীদের সাথে। না, কোনো বাঙালি রমণী নয়, অস্ট্রেলিয়ান তন্বী। গত সোমবার পহেলা বৈশাখের দুপুরে রাজধানীর জাতীয় সংসদ এলাকায় বাঙালিদের মতোই বৈশাখ বরণ করেছেন জুলিয়া হার্মিনসন। সাথে ছিলেন আরও বিভিন্ন দেশের বিদেশি ১৫-২০ জন নাগরিক। কর্মসূত্রে তারা অবস্থান করছেন ঢাকায়। বাঙালির প্রাণের নববর্ষ বাঙালি প্রাণের সাথে একাত্ম হয়েই বরণ করলেন বিদেশি-বিদেশিনীরা। জুলিয়া জানালেন, ঢাকাবাসী বাঙালিদের মতো সোমবার সকালেই তিনি ও তার কয়েকজন বন্ধু-সহকর্মী মিলে রাস্তায় নেমেছেন। মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করার ইচ্ছে থাকলেও সময় স্বল্পতার কারণে পারেননি। তবে ঘুরে বেড়িয়েছেন ঢাকার অনেক জায়গায়, রমনা বটমূল থেকে শুরু করে সংসদ ভবন এলাকা। ঘুরেছেন হাতিরঝিল থেকে গুলশান। জুলিয়া বললেন, বাঙালিরা অনেকবেশি উত্সবপাগল। প্রচণ্ড গরম। কিন্তু তা গায়ে না মেখে সবাই যেভাবে দলবেঁধে আনন্দ করছে দেখে আমি অভীভূত। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোও অনেক প্রাণবন্ত। মাঠে-রাস্তায় অনেক মানুষ। অনেক প্রাণচাঞ্চল্য। তাই সকালে ঘুরতে বেরিয়ে আর বাসায় ফিরে যাইনি। ঘুরে বেড়াব বিকাল পর্যন্ত। তার সঙ্গে পাঞ্জাবি পরিহিত ব্রিটিশ নাগরিক স্টুয়ার্ট বলে উঠলেন, বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ধরন একেবারে স্বতন্ত্র। বিভিন্নজনের পৃথক পৃথক আয়োজন, ঘুরে বেড়ানো। পুরো ঢাকার চিত্র যেন একইরকম। কোথাও উত্সবের ঘাটতি নেই। ভাঙা বাংলায় তিনি গাইলেন ‘মেলায় যাইরে’ গানের কয়েক ছত্র। নিউজিল্যান্ডের নাগরিক ব্রডের জানা-শোনা আছে বাংলা নববর্ষের ইতিহাস সম্পর্কে। বললেন, ইন্টারনেট ঘেটে পহেলা বৈশাখের উত্সব সম্পর্কে জেনেছি। এটি বাঙালির অর্থনীতি আর সম্প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধনকে দৃঢ় করে। এমন প্রাণবন্ত উত্সব খুব কমই আছে। তাল পাখা হাতে বাতাসরত অবস্থায় কানাডিয়ান নাগরিক ফ্রাঙ্ক বললেন, অনেক মানুষের চাপ থাকলেও তারা উপভোগ করছেন উত্সব। অনেক বাঙালি তাদের বাঙালি পোশাকে দেখে অভিনন্দন জানিয়েছে। তিনি জানালেন, ঢাকাবাসীর প্রাণখোলা আনন্দ তাদের জীবনেও এনে দিয়েছে আনন্দের পরশ। আগামী বছরও তিনি পহেলা বৈশাখে ঘুরে বেড়াতে চান। মিস্ করতে চান না মঙ্গল শোভাযাত্রাও।