হবিগঞ্জে জলমহাল নিয়ে সংঘর্ষ গুলি, নিহত দুই

মাধবপুরের ধর্মঘর বাজারে গত রবিবার রাতে জলমহাল ইজারা নেয়াকে কেন্দ্র করে দু’দলের মধ্যে সংঘর্ষ, গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে কলেজ ছাত্র সোহেল মিয়া (১৯) এবং কুখ্যাত কালা মিয়া (৫০) নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে ২০ জন, যাদের অধিকাংশই গুলিবিদ্ধ। ধর্মঘর ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে । এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ধর্মঘর বাজার দীঘি ইজারা দেয়া হয়। ইজারা পায় ধর্মঘর মত্স্যজীবী সমবায় সমিতি। রাতে ইজারাপ্রাপ্ত লোকজন ধর্মঘর বাজারে একটি চায়ের দোকানে বসে যখন চা পান করছিলেন তখন কালিকাপুর গ্রামের ফরিদ মিয়া, দেবনগর গ্রামের জসীম উদ্দিনের নেতৃত্বে ২৫-৩০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র ও বন্দুক নিয়ে চা দোকানে ঢুকে হামলা চালায়। এ সময় দুইটি বন্দুক দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি ছোঁড়া হয়। ককটেলও বিস্ফোরিত হতে থাকে। গুলি আর ককটেলের শব্দে বাজারের লোকজন ভয়ে এদিক-সেদিক ছুটতে থাকে। পরে মত্স্যজীবী সমবায় সমিতির লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পাল্টা হামলা চালায়। চলে দীর্ঘক্ষণ সংঘর্ষ। গুলিতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় ধর্মঘর কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র নিজগ্রাম গ্রামের সোহেল মিয়া (১৯)। খবর পেয়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গুরুতর আহত কালিকাপুর গ্রামের কালা বাহিনীর প্রধান কালা মিয়াকে (৫০) হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল থেকে সিলেট নেয়ার পথে গত সোমবার মারা যায়। সোমবার বিকালে সংসদ সদস্য এডভোকেট মাহবুব আলী, উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. শাহজাহানসহ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এমপি মাহবুব আলী এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ দেন। ওসি আব্দুল বাছেদ জানান, রুকু মিয়া বাদী হয়ে মাধবপুর থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। খুনিদের গ্রেফতারে ইতিমধ্যেই কয়েক জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে।