তৃণমূলকে ফের আচরণবিধি মানতে বাধ্য করল ইসি

সরকারি দল হলেই নির্বাচনি আচরণবিধিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর ‘লাইসেন্স’ পাওয়া যায় না, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন দল মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেসকে তা আবারো দেখিয়ে দিল ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সরকারি দলের ক্যাডারদের চোখ রাঙানিকে পাত্তা না দিয়ে গতকাল মালদার কালিয়াচকে ক্ষমতাসীন দলের ব্যানার, ফেস্টুন নামিয়ে ফেললেন নির্বাচনি কর্মকর্তারা। আচরণবিধি লংঘনের অভিযোগ পেয়ে কর্মকর্তার সেখানে গেলে ‘সরকারি দল’ পরিচয় দিয়ে তৃণমূল ক্যাডাররা প্রবল প্রতিরোধ সৃষ্টি করে। কিন্তু কর্মকর্তারা তাদের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে অনড় থাকেন। তৃণমূল কর্মীদের হুমকি ধামকি ও মারমুখি আচরণ সত্ত্বেও ব্যানার ফেস্টুনগুলো খুলে ফেলেন কর্মকর্তারা। এখানেই শেষ নয়, কালিয়াচক থানায় তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। মালদা দক্ষিণ কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন পুরো ঘটনা অস্বীকার করে কমিশনের কর্মীদের ওপর ‘কঠোরতার’ অভিযোগ করেন। তার কর্মী সমর্থকরা ইসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো ‘ঝামেলা’ করেনি বলে তিনি দাবি করেন। উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে এই কালিয়াচকেই নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের উপর হামলা চালিয়েছিল শাসক দলের কর্মীরা। পরে কমিশন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়। জি নিউজ জানায়, পশ্চিমবঙ্গে সরকারি দলের বিরুদ্ধেই শুধু আচরণবিধি লংঘন ও কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিরোধে জড়ানোর অভিযোগ উঠছে। সম্প্রতি মালদহের মানিকচক থানা এলাকায় আড়াইশ’ মোটরবাইক নিয়ে মিছিল বের করেছিলেন মালদা দক্ষিণ আসনের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মোয়েজ্জেম হোসেন। কিন্তু কমিশন সেই মিছিল করতে বাধা দেয়। তারা বলেন, এতোগুলি বাইক নিয়ে মিছিল করার অনুমতি তাদের নেই। কিন্তু সরকারি দলকে এভাবে বাধা দেয়ার ‘দুঃসাহস’ দেখানোয় কমিশনের কর্মীদের মারধর করে তৃণমূল কর্মীরা। ইসির নির্দেশে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ ছুটে যায়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। গ্রেফতারের ভয়ে সরকারি দলের সেই কর্মীরা এখন ঘরছাড়া। কয়েকদিন আগে পশ্চিমবঙ্গের পাঁচজন এসপি, একজন ডিসি ও একজন এডিসির বদলি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সরাসরি বিবাদে জড়িয়েছিলেন রাজ্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। মমতা বলেছিলেন, তিনি কিছুতেই কমিশনের সুপারিশ মানবেন না। কিন্তু কমিশনের কঠোরতার কারণে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হন মমতা।