নাটোরে বেপরোয়া এ্যাকশনে বিজিবি
প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:০৩
নাটোর রেলস্টেশন এলাকায় বিজিবির পাইকারি পিটুনিতে ২৫ ব্যবসায়ীসহ ৫০ জন আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিজিবি সদস্যরা বাজারের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক, শ্রমিক, পথচারী, ট্রেনযাত্রী, নারী ও শিশুদের নির্বিচারে পিটিয়ে জখম করে। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে হামলা লুটের ঘটনার বিচার ও আহতদের সুচিকিত্সার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
সোমবার সকালে নাটোর স্টেশনে খুলনাগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনে বিজিবির কুষ্টিয়ার ৩২ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা অভিযান শুরু করে। ঐ সময় স্থানীয় চোরাচালানিরা বিজিবির দুই সোর্সকে মারপিট করে। ক্ষিপ্ত হয়ে বিজিবি সদস্যরা ট্রেনের যাত্রী, নারী ও শিশুদের ওপর হামলা চালায়। চোরাকারবারী ও সাধারণ যাত্রীরা এর প্রতিবাদে তাদের ওপর পাথর নিক্ষেপ করে। ভাংচুর হয় বিজিবির একটি পিকআপ। বিজিবি সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে ৬ রাউন্ড ফাঁকা গুলি চালিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। দুপুর আড়াইটায় বিজিবির ৫০ সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে স্টেশন বাজারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঢুকে ব্যবসায়ীদের ওপর হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট করে। আহতদের মধ্যে হোটেল ব্যবসায়ী ইউনুস আলী, আক্কাস আলী, ডিম ব্যবসায়ী রবি কুন্ডু , সুজন দাস, মাছ ব্যবসায়ী সেকেন্দার আলী, মুদি দোকানি মাসুদ রানা, আলফাজ, দোকান কর্মচারী মিন্টু, হোটেল শ্রমিক আব্দুল মতিন, মিলন, চা ও পান দোকানী ফজের আলী, বেলাল মিয়া, ফারুক হোসেন, বেলাল (২), বই বিক্রেতা নজরুল ইসলাম, ডাব বিক্রেতা কালু, শফিকুল, সবজি বিক্রেতা শফিক, মনির হোসেন, নারী শ্রমিক সুফিয়া বেগম, পাঁচ বছরের শিশু রিমন। আহতদের নাটোর আধুনিক হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় । ছবি তোলার সময় আমাদের সময়ের নাটোর প্রতিনিধি আল মামুনের ক্যামেরা কেড়ে নেয় বিজিবির সদস্যরা। পরে তা ফিরিয়ে দেয়া হয়। বিজিবির হামলার প্রতিবাদে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ রুখে দাঁড়ায়। তারা প্রশ্ন করে, কুষ্টিয়ার বিজিবি রাজশাহী এলাকায় কেন? তারা বিজিবির ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে এক বিজিবি সদস্য আহত হয়। বিজিবির সদস্যরা ঐ সময় ৬ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে।
খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম রমজান ও ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার তদন্ত ও বিচারের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এব্যাপারে নাটোর থানার ওসি আসলাম উদ্দিন জানান, বিজিবির নাটোরে অভিযানের বিষয়ে পূর্বাহ্নে তাদের জানানো হয় নি। তবে ঐ ঘটনায় সান্তাহার জিআরপি থানায় একটি মামলা হয়েছে। বিজিবির এক বিজ্ঞপ্তিতে ৪ জনকে আটকের কথা বলা হয়েছে।
নাটোরের জেলা প্রশাসক জাফর উল্লাহ জানান, সকালে বিজিবির অভিযানের বিষয়ে জেলা প্রশাসন অবগত নয়। ব্যবসায়ীদের ওপর হামলার বিষয়টি নিয়ে তিনি বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলবেন বলে জানান।
সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল জানান, বিজিবির ওপর যারা হামলা করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে সাধারণ মানুষকে পিটিয়ে তারা অন্যায় করেছে। এছাড়া বিজিবির অভিযানের বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা প্রয়োজন ছিল।